Published : 11 Jun 2026, 03:20 PM
দেশের অভ্যন্তরে অর্থ পাচার বন্ধ এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অবৈধভাবে অর্থ পাচার রোধ করতে কোম্পানি, ট্রাস্ট বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা বা সুবিধাভোগীর পরিচয় গোপন রাখা বন্ধ করতে একটি 'বেনিফিসিয়াল ওনারশিপ রেজিস্টার' প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নতুন করে সাজানো হবে। বিদ্যমান আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ইতিমধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে 'রেড নোটিশ' জারি করা হয়েছে। তবে তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হয়নি। যখন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন এই প্রশ্ন তোলেন যে বিগত সরকারগুলোর সময়ে বিদেশে পাচার হওয়া জনগণের অর্থের পুনরুদ্ধার কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তখন অর্থমন্ত্রী জানান, বিদেশে অবৈধভাবে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি বারো সদস্যের আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স বর্তমানে এগারোটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পাচার মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য এগারোটি যৌথ অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। অর্থ পাচার সংক্রান্ত অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে ১৪২টি মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে ১৭টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায়ও এসেছে। এছাড়াও, পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর অধীনে একটি বিশেষ 'স্টোলেন এসেট রিকভারি ডিভিশন' তৈরি করা হয়েছে।
ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি দেওয়ানি পদ্ধতির মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ ফেরানোর লক্ষ্যে, খেলাপি ঋণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি ব্যাংক তাদের অর্থ উদ্ধারের জন্য 'নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট' স্বাক্ষর করে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে 'নো উইন নো ফিস' (টাকা উদ্ধার হলেই কেবল ফি প্রদান) শর্তে কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এগারোটি মামলার মধ্যে ইতিমধ্যে ছয়টি ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, এই আইনি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্পৃক্ততা পাচারকৃত অর্থ দ্রুত ফেরানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।।
হেলিকপ্টার ধ্বংসের পর ইরানে মার্কিন আক্রমণ; জবাবে তিন ঘাঁটিতে আঘাত হানল ইরানীয় বাহিনী