Published : 10 Jun 2026, 12:02 PM
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলের হত্যা মামলায় চা-বিস্কুটের দোকানদার মো. সালাউদ্দিন লিটন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বর্ণনা করেন, কীভাবে সেই ভয়াবহ ঘটনার সময় পুলিশ তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছিল। ২০২৪ সালের ২০ জুলাইয়ের ঘটনাটি তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। জবানবন্দিতে সালাউদ্দিন লিটন জানান, যাত্রাবাড়ীর কাজলা ফুটওভার ব্রিজের কাছে তাঁর দোকান ছিল। দুপুর নাগাদ যখন তিনি চা বিক্রি করছিলেন, তখন তাইম, শাহরিয়ার ও রাহাত সেখানে আসে। তাদের কথোপকথনের সময় তারা গুলির শব্দ শুনতে পায়।
এরপর পুলিশ এসে তাকে সরাসরি হুমকি দেয়, "শাটার খুলবা নাকি গুলি করব?" সালাউদ্দিন তখন সবাইকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলেন এবং দোকানের দরজা খুলে দেন। ঘটনার পরবর্তী বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে চড় মারে এবং কিছু লোক তাঁকে টেনে নিয়ে যায়। এরপর তাদের রাইফেল দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। কিছু পুলিশ সদস্য নগদ টাকা ও সিগারেট নিয়ে যান। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মাঝেও তিনি বলেন, দোকানের শাটার বন্ধ করতে বলা হয়। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় তিনি দেখেন তাইম পড়ে আছে এবং শাহরিয়ার তাকে ওঠানোর চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি জানান যে ছেলেটির শরীরে গুলি লেগেছে এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলে চলে যান। এই মামলায় মোট এগারো জন আসামি রয়েছে, যাদের মধ্যে নয়জন পলাতক। কারাগারে থাকা দুই আসামি হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এবং সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী। নিহত তাইম ছিল নারায়ণগঞ্জের এক ছাত্র।।
ইরানের সাথে সংঘাত এড়াতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: একা লড়তে হতে পারে