Published : 10 Jun 2026, 02:05 AM
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক গৃহবধূর আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের অসহনীয় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ওই গৃহবধূ নিজের জীবন শেষ করে দেন। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে স্বজন ও এলাকাবাসী এক মানববন্ধন আয়োজন করেন। মঙ্গলবার দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌরসভার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শাহিদার বাবা শহীদ মিয়া, মা ময়না আক্তার এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রমতে, মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শাহিদার প্রায় এক বছর আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। গত বছরের আগস্ট মাসে পার্শ্ববর্তী বাখরপুর গ্রামের মোনাইদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোনাইদ শাহিদাকে বিয়ে করেন।
সেই সময় শাহিদা তাঁর পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়েছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, বিবাহের পর থেকেই শাহিদার কাছ থেকে ছয় লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবি করা হতো। দরিদ্র পরিবারটি এই অর্থ দিতে না পারায় মোনাইদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়মিত মারধর, গালিগালাজ এবং মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শাহিদা বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ১ এপ্রিল শাহিদার বাবা শহীদ মিয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোনাইদ হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।
এছাড়াও শ্বশুর শফিকুল ইসলাম, ভাশুর জুনাইদ হোসেন এবং ননদ চম্পা আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। গত ৯ এপ্রিল মোনাইদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন যে, প্রধান আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পরেও বাদীপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বাদীপক্ষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মোনাইদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন বন্ধ রেখেছেন। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম জানান, মামলাটির তদন্ত কাজ শেষ হয়েছে এবং অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
ইরানের সাথে সংঘাত এড়াতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: একা লড়তে হতে পারে