Published : 01 May 2026, 05:08 AM
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন সংস্থা বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই সমীক্ষাগুলোতে সম্ভাব্য ফলাফলের ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো সমীক্ষক ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র জয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস আবারও ক্ষমতায় আসবে। তবে, খ্যাতনামা একটি সংস্থা এখনো তাদের ফলাফল প্রকাশ করেনি। ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষের মতামত পাওয়া না যাওয়ায় তারা পশ্চিমবঙ্গের বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করবে না। এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা প্রদীপ গুপ্ত বলেন, ভোটাররা তাদের সমীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন না। গুপ্ত জানান, “আমরা সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলে সমীক্ষা করি। প্রথম দফার ভোটের পর যখন কথা বলার চেষ্টা করি, তখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ কোনো উত্তর দিতে চাননি। তারা হ্যাঁ বা না—কোনোটাই বলেননি।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি ছিলেন না। তাই, যদি নমুনা পর্যাপ্ত ও প্রতিনিধিত্বমূলক না হয়, তাহলে মাত্র ২০-৩০ শতাংশ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া আমরা ঠিক মনে করি না।
আমরা বৃহস্পতিবার আবার চেষ্টা করব। ভোট শেষ হয়ে গেছে, এখন হয়তো মানুষ খোলামেলাভাবে কথা বলবেন।” একই সাক্ষাৎকারে গুপ্ত আবারও বলেন, বৃহস্পতিবারও ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ পশ্চিমবঙ্গের সমীক্ষার ফল প্রকাশ নাও করতে পারে। তিনি বলেন, “যদি কেউ কথা না বলেন, তাহলে আমার কিছু বলার থাকে না, তাই মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে, আমি সবসময় সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। এই দিনগুলোতে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। এত কষ্টের পরও যদি পূর্বাভাস দিতে না পারি, তবে সেটি আমাদের জন্য হতাশাজনক হবে।” শেষ পর্যন্ত, বৃহস্পতিবার বিকেলে গুপ্ত এনডিটিভিকে জানান, ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ তাদের পূর্বাভাস প্রকাশ করবে না। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ১৪৮টি আসন প্রয়োজন। কয়েক দফায় ভোটগ্রহণের পর বুধবার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
ইতিমধ্যে প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষাগুলোর পূর্বাভাসে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ‘প্রজা পোল’ নামের একটি সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন। ‘ম্যাট্রিজ’ ও ‘পোল ডায়েরি’ সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়িয়ে যথাক্রমে ১৬১ ও ১৭১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ‘জনমত পোলস’ বলছে, তৃণমূল ও তার জোটসঙ্গীরা ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পাবে। ‘পিপলস পালস’ ক্ষমতাসীন দলের জন্য পূর্বাভাস দিয়েছে ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসনের। এই দুটি সমীক্ষার বক্তব্য হলো, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প দলটিকে বিজেপির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সাহায্য করেছে। বাম দলগুলো ও কংগ্রেসের জোটের খারাপ পারফর্ম করার বিষয়ে অধিকাংশ সমীক্ষা সংস্থাই একমত। অনেক পূর্বাভাসে তাদের সম্মিলিত আসন সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে থাকতে পারে বলে দেখানো হচ্ছে।।