Published : 22 Aug 2026, 06:16 PM
মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনালটি তিন দিনের দীর্ঘ বিরতির পর আজ (২২ আগস্ট) পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। এলএনজি কার্গোর ঘাটতির কারণে গত তিন দিন ধরে এই সরবরাহ বন্ধ ছিল, যার ফলে দেশের তীব্র গ্যাস সংকটে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। রিগ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই শিল্প ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য জ্বালানির প্রবাহ নিশ্চিত হলো। পেট্রোবাংলা সূত্রে খবর, আজ দুপুর ২টার দিকে টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় একশ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এই সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দুটি এফএসআরইউ থেকে দেশে মোট ৬৭০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২,৩০০ এমএমসিএফডিতে গ্যাস পৌঁছে দিতে সহায়ক। পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই সরবরাহের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। তবে এই টার্মিনালটির কার্যক্রমে ফিরে আসার আগে বেশ কিছু জটিলতা ছিল। গত ১৯ আগস্ট থেকে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের কারণে এই টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় অকেজো ছিল এবং জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল।
সেই দুর্ঘটনার পর সরকার দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানি করে ব্যবস্থা নেয়। মেরামত শেষে আংশিক সরবরাহ শুরু হলেও, গত সপ্তাহে এলএনজি মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় গ্যাসের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে মহেশখালীর এই দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই টার্মিনালটি পুনরায় সচল হওয়ায় বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে ভুগতে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং শিল্প-কারখানাগুলো এখন কিছুটা স্বস্তি লাভ করেছে।।
আট সপ্তাহে বাংলা কিউআর লেনদেনে অভাবনীয় বৃদ্ধি, ৩,৫৭৮ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন