Published : 08 Jun 2026, 10:02 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)-এর পরিচালনার দায়িত্ব এবার দুই সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্থানীয় জোটের প্রস্তাবের মুখে। গত ২৮ এপ্রিল 'সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম'-এর নামে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। এক মাসেরও বেশি সময় পর এই বিষয়টি সামনে আসে। একই দিনে স্থানীয় বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এমজিএইচ গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আলোচনার মাঝে দেশীয় এই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবটি টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ডিপি ওয়ার্ল্ড এনসিটি পরিচালনার আগ্রহ দেখাচ্ছে। নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া এই প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি সক্রিয় কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড় এবং গত বছর বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। এই কনসোর্টিয়ামে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) বর্তমান পরিচালনাকারী সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড এবং দুই অভিজ্ঞ বার্থ অপারেটর কসমস এন্টারপ্রাইজ ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড অন্তর্ভুক্ত। এই তিন অংশীদারেরই বন্দরে পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বহু বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কনসোর্টিয়ামের দুই অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুই সংসদ সদস্যের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান। কসমস এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকার দলের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এবং এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব থেকে ভিন্ন, এই স্থানীয় কনসোর্টিয়াম পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর পরিবর্তে 'সেবা-ভিত্তিক' বা সার্ভিস-বেজড অপারেটিং মডেলের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, টার্মিনালের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ ক্ষমতা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) হাতে থাকবে।
কনসোর্টিয়াম শুধুমাত্র ১৫ বছরের জন্য অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল নিয়োগ এবং জ্বালানি খরচ বহন করবে। এর বিনিময়ে তারা প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৬৯ ডলার 'অপারেশনাল ফি' দাবি করেছে। তাদের যুক্তি হলো, এই ব্যবস্থায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে জনবল বা রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না, ফলে আয়ের সিংহভাগ বন্দরের হাতেই থাকবে। প্রস্তাবটিতে সিবিএ অডিট রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে বন্দর প্রতি কনটেইনারে ১৬১.৮২ ডলার আয় করে এবং ৫৬.১৫ ডলার ব্যয় করে, যার ফলে নিট আয় থাকে ১০৫.৬৭ ডলার। কনসোর্টিয়ামের এই মডেলে কোনো অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দরের নিট আয় প্রায় ৯২ ডলার থাকবে। বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই আসছে...।
মে মাসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি