Published : 25 May 2026, 02:23 PM
আসন্ন জাতীয় বাজেটে বস্ত্রখাতের ব্যবসায়ীরা একটি বড় দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) প্রস্তাব করেছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই খাতের উপর আয়করের হার ২৭.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হোক। কোভিড-১৯ মহামারী, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে তারা এই প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসাথে, তৈরি পোশাক শিল্পের ১২ শতাংশ আয়কর বহাল রাখার প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে তারা বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) তাদের ৫০টি সদস্য কারখানার ৪২০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফের জন্য অর্থসচিবের কাছে আবেদন করেছে। ২০১৫ সালে বস্ত্র উৎপাদনের সাথে জড়িত বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপর ১৫ শতাংশ আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছিল।
গত ৩০ জুন সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায়, চলতি অর্থবছরে এই খাতের উপর ২৭.৫০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হয়েছে। বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল জানিয়েছেন, বর্তমান কর কাঠামো বৈষম্যমূলক। এর ফলে প্রাথমিক টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, “প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত তুলনামূলকভাবে বেশি করের চাপে রয়েছে, যা এই খাতের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।” টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ীরা গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার, টাকার অবমূল্যায়ন, রপ্তানি প্রণোদনা হ্রাস এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়াও, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার কারণে তাদের সুতা ও কাপড় বাংলাদেশে কম দামে প্রবেশ করছে।
বিটিএমএর তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ২০০টির বেশি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং টিকে থাকা মিলগুলোও তাদের উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ৬০-৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারা, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকের মৃত্যুর কারণে ৫০টি কারখানা রুগ্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি রাষ্ট্রের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।” এই ৫০টি প্রতিষ্ঠানের ১৬টি ব্যাংকের কাছে সর্বমোট ৮১৯.৮৫ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে, যার মধ্যে সোনালী ব্যাংকের কাছে ২৩৩.২৭ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে।।