Published : 19 Jan 2026, 09:08 AM
আমাদের দেশে উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা বরাবরই উপেক্ষিত। এখানকার উদ্ভিদবিদ্যা চর্চার শুরুটা হয়েছিল বিদেশি বিশেষজ্ঞদের হাত ধরে। এই অঞ্চলের স্থানীয় উদ্ভিদের বিজ্ঞানসম্মত শ্রেণীবিন্যাস ও শনাক্তকরণে ব্রিটিশদের অবদান অনস্বীকার্য। এরপর আর তেমন উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি। জ্যাকব থমাস সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। একজন বিদেশি হয়েও তিনি বাংলাদেশের উদ্ভিদ নিয়ে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। ‘প্ল্যান্টস অব বাংলাদেশ’ নামে তিনি দুই সহস্রাধিক প্রজাতির উদ্ভিদের পরিচিতি নিয়ে একটি চমৎকার ফিল্ডগাইড তৈরি করেছেন। এটি বাংলাদেশের উদ্ভিদ নিয়ে দ্বিতীয় ফিল্ডগাইড। এর আগে ২০১৭ সালে তরুপল্লব ও আইইউসিএন যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের পুষ্প-বৃক্ষ লতা-গুল্ম’ নামে আরেকটি ফিল্ডগাইড প্রকাশ করেছিল। উদ্ভিদকে শনাক্ত করা, তার পরিচিতি দেওয়া এবং তা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা—সবই জটিল প্রক্রিয়া। জ্যাকব থমাস একাগ্রতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে এই কাজটি করেছেন। ‘প্ল্যান্টস অব বাংলাদেশ’ বইটি নিমফিয়া পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে, যা জুন ২০২৫-এ বাজারে আসবে।
বইটির প্রচ্ছদও করেছেন জ্যাকব থমাস। ৫২০ পৃষ্ঠার এই বইটিতে গাছের সংখ্যা যথেষ্ট। প্রতিটি পৃষ্ঠায় গড়ে আট প্রজাতির গাছের তথ্য রয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রতিটির ভেতরে চার থেকে আটটি ছবি ও চিত্র দেওয়া হয়েছে। বইটিতে স্থানীয় ও আঞ্চলিক মানচিত্রও যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি গাছের ফুল, ফল, পাতা, কাণ্ড ও ডালপালার ছবি রয়েছে। বইয়ের শুরুতে বিভিন্ন উদ্ভিদের পাতার ছবি ও পত্রগুচ্ছ পরিবার অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। মূল অংশে গাছের বর্ণনার সঙ্গে পাতার ছবিগুলোর পৃষ্ঠা নম্বর দেওয়া আছে, যা শনাক্তকরণে সাহায্য করবে। কিছু প্রজাতির ফুল, ফল, বীজ ও বাকলের ছবিও একই পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে দুর্লভ উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। বইয়ের বিন্যাস সহজবোধ্য করার জন্য কিছু সরলীকরণ করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি সূচিপত্র ব্যবহার করে সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে।
উদ্ভিদ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে তার পরিচিতি ও উপস্থাপন—সবই জটিল। জ্যাকব থমাস একাগ্রতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে এই কাজটি করেছেন। বইটিতে ১০ হাজারের বেশি ছবি রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি লেখকের নিজের তোলা। তবে ছবির সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং আকৃতি ছোট হওয়ায় মূল পাঠ কিছুটা দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। পরিবারভিত্তিক বিন্যাস অনুসরণ করায় এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো না হওয়ায় সাধারণ পাঠকদের কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদ খুঁজে পেতে সমস্যা হতে পারে। কিছু শিরোনাম বাংলায় আবার কিছু ইংরেজিতে হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। কিছু উদ্ভিদের প্রচলিত বাংলা নাম নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। যেমন, ম্যাগনোলিয়া গ্রান্ডিফ্লোরার প্রচলিত নাম হিমচাঁপা বা উদয়পদ্ম হলেও বইয়ে এটিকে বিলেতি চাঁপা বলা হয়েছে। কিছু ছবিতে অস্পষ্টতাও রয়েছে। বইটি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ’ গ্রন্থমালার (২০১১) পর প্রকাশিত হওয়ায়, সম্প্রতি নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উদ্ভিদগুলো এখানে অনুপস্থিত। তবে সামগ্রিকভাবে, বইটি উদ্ভিদপ্রেমীদের জন্য নানাভাবে সহায়ক হবে।।