Published : 13 Aug 2026, 05:16 AM
রাজধানী ঢাকা বুধবার রাতে এক ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হলো। মধ্যরাতের এই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কিছু স্থানে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে বাসিন্দাদের। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে এমন বিদ্যুৎহীনতা ঢাকার নাগরিকদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত ৯টা থেকে দেড়টার মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্কাটন গার্ডেন, কাজীপাড়া, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার এবং মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটসহ বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদকরা এই বিভ্রাটের খবর মাঝরাতে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেন। মৌচাক এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সাধারণত ট্রান্সফরমারে সমস্যা হলেও তা ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়, কিন্তু বুধবার রাতে প্রায় ৫০ মিনিটও বিদ্যুৎ আসেনি। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আনিকা তাসনিম অভিযোগ করেন, এই দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে এবং বিদ্যুতের বিলও দ্বিগুণ হচ্ছে বলে তিনি জানান।
কাজীপাড়া এলাকার সাংবাদিক রাহাত আহমেদ জানান, গত তিন বছরে বুধবার রাতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ চলেছিল। তিনি বলেন, তীব্র গরম এবং মশার উপদ্রবের কারণে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের কাছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ত্রুটি কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকার বাসিন্দারাও রাতে বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে রাজধানীর সব এলাকায় একই পরিস্থিতি ছিল না; মিরপুর-১১ ও সাংবাদিক প্লট এলাকা রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল বলে জানা যায়। এই বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে রয়েছে বৃহত্তর গ্যাস-সংকটের প্রভাব। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সারা দেশে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং তিন হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট রেকর্ড করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট এবং বুধবার তা ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট। অন্যদিকে, গ্যাসের সরবরাহও কমেছে। গতকাল দেশে গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট, যেখানে চাহিদা ছিল ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি উন্নত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।।
দুই ডিআইজি সহ পুলিশ প্রশাসনের ১৭ কর্মকর্তার বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস