Published : 12 Aug 2026, 04:16 AM
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিন্ডিকেট সভায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অধ্যাপক বাহাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পাঁচটি কোর্সের অধিকাংশ ক্লাস এবং মধ্যবর্তী পরীক্ষাগুলো ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলে তাদের শিক্ষাজীবনের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে তারা মনে করছে। এই দাবিতে গত ৬ আগস্ট ওই বিভাগের চারটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পৃথক লিখিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে তাদের দাবি পেশ করে। পরবর্তীতে গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানায়।
আবেদনে শিক্ষার্থীরা সর্বসম্মতিক্রমে একাডেমিক স্বার্থ বিবেচনা করে অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা এবং চলমান কোর্সগুলো পরিচালনার জন্য তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। উল্লেখ্য, অধ্যাপক বাহাউদ্দিন বর্তমানে বিভাগের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ, চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির মোট পাঁচটি কোর্সের শিক্ষাদান করছিলেন। এর আগে, গত ২৮ জুলাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষক বরখাস্ত এবং চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে 'বিভিন্ন অনিয়ম' এবং এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকল দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পূর্বে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিভাগটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই বিষয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মুমিত আল রশীদ মঙ্গলবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) জানান, 'গত বৃহস্পতিবার চারটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি লিখিত আবেদন আমরা পেয়েছি।
সিন্ডিকেট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম। তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনা করে বিভাগের একাডেমিক কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'চিঠিতে শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।'।
বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ: বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক