Published : 08 Aug 2026, 11:16 PM
হোর্হে মেসি কেবল বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসির বাবা ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক নীরব সমর্থক এবং পথপ্রদর্শক। তাঁর জীবনযাত্রা ও সিদ্ধান্তগুলো অভিভাবকদের জন্য গভীর কিছু শিক্ষা বহন করে। রোজারিওতে ইস্পাত কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি শখের ফুটবল কোচ হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। যখন ছেলের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশ, পরিবার ও স্বাভাবিক জীবন ত্যাগ করে তিনি বিদেশে ছেলের পাশে ছিলেন, তখন তাঁর জীবন থেকে আমরা অনেক মূল্যবান পাঠ নিতে পারি। ১১ বছর বয়সে মেসির শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে এই সমস্যা তার শারীরিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং তা বহন করার আর্থিক চাপ পরিবার ও ক্লাবের জন্য ছিল বিশাল বোঝা। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও হোর্হে কখনো ছেলের প্রতি বিশ্বাস হারাননি।
তিনি চিকিৎসার পথ ধরে রেখেছিলেন এবং একই সাথে ছেলের ফুটবল প্রতিভা বিকশিত করতে সাহায্য করেছিলেন। সন্তানের সামনে কোনো পথ বন্ধ হলে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু হোর্হে মেসির গল্প থেকে আমরা শিখি—যখন কোনো দরজা বন্ধ হয়, তখন চেষ্টা থামানো উচিত নয়। সন্তানের পাশে থাকা এবং নতুন দিগন্তের সন্ধান করা জরুরি। এই কঠিন সময়ে তিনি ১৩ বছর বয়সী মেসিকে নিয়ে স্পেনে যান, যাতে তার চিকিৎসা চলতে পারে এবং বার্সেলোনায় যোগদানের পথও তৈরি হয়। মেসির জীবনের সেই সংকটকালে হোর্হে নিজের জীবন থেকে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন। বছরের পর বছর ধরে নীরবে ছেলের পাশে থেকেছেন। মা-বাবার ত্যাগের কথা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে সন্তানের কাছে সেই ভালোবাসার গভীরতা বোঝা কঠিন হতে পারে।
ছোটবেলায় গ্রান্দোলিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে পরে এজেন্টের দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত তাঁর ভূমিকা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে—কোচ থেকে পরামর্শদাতা ও এজেন্ট। অভিভাবকত্বের একটি জটিল দিক হলো এই ভারসাম্য রক্ষা করা: কখন সন্তানের হাত ধরে পথ দেখানো উচিত এবং কখন তাকে নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত, তা বুঝতে পারা। আমাদের সন্তানের পাশে থাকতে হবে, সঠিক নির্দেশনা দিতে হবে, কিন্তু তার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য সব সিদ্ধান্ত নিজে নিতে হবে না। হোর্হে মেসি কেবল বাবার ভূমিকায় ছিলেন না; তিনি ছিলেন মেসির সাফল্যের পেছনে এক অবিচল শক্তি। তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য ছেলেকে ব্যবহার করেননি, বরং ছেলের সহজাত সম্ভাবনার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। সাফল্য অর্জনের পথে তিনি নীরব সঙ্গী ছিলেন—কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন এবং সাফল্যের শিখরেও সঙ্গ দিয়েছেন।।
জুলাই বিপ্লবের শহীদরা জীবন উৎসর্গ করে নতুন স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছেন: গণপূর্ত মন্ত্রীর বার্তা