Published : 08 Aug 2026, 12:17 PM
মার্কিন সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ হয়েছে, যার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ভারত ও চীনসহ রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর একশো শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা আসতে পারে। এই বিলটি ইউক্রেনের সমর্থক রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে নামকরণ করা হয়েছে। সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে এই আইনটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে গৃহীত হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহাম সরব ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সিনেটে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন বোন ডার্লিন গ্রাহাম। তিনি মন্তব্য করেন, 'এই পদক্ষেপ পুতিনের সেই স্থানে আঘাত হানবে যেখানে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা অনুভূত হয়।' এই বিলটি পাস করাতে ডেমোক্র্যাট রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ অন্যান্যরা জোর দিয়েছিলেন যে ইউক্রেনের জনগণ একা নয়।
ব্লুমেনথাল আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ইউক্রেন থেকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং মস্কো থেকে পুতিনের নজর রয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের অধিবেশন বসবে, যেখানে এই বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এই নিষেধাজ্ঞার আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাবেন, যার মধ্যে ভারত ও চীন অন্যতম। বর্তমানে এই তালিকার মধ্যে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়াও রয়েছে। তবে বিলটিতে কিছু ছাড়ের বিধান রাখা হয়েছে। যেসব দেশ তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের পনেরো শতাংশের কম আমদানি করে এবং এই নির্ভরতা কমানোর জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। এই আইনে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে পুতিন এবং রাশিয়ার শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের পাশাপাশি রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি প্রকল্পগুলোকেও।
বর্তমানে রুশ তেল ও জ্বালানি থেকে আসা রাজস্বের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফাঁদ এড়াতে মস্কো প্রায়শই পুরোনো বা পরিবর্তিত তেলের ট্যাংকার ব্যবহার করে আসছে, এবং নতুন আইনে সেইসব পুরোনো ট্যাংকারও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। তবে যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসকে বোঝাতে পারেন যে জাতীয় স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা প্রয়োজন, তবে তিনি শর্তসাপেক্ষে ছাড় দিতে পারেন। এছাড়াও, এই বিলের মধ্যে ইরানের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন আইনে সেই মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হবে।।