Published : 04 Aug 2026, 05:17 PM
দিনাজপুরের বিরামপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একটি পুলিশ সদস্যকে ইউএনও-এর সামনে লাথি মারা হয়। এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে খাস পুকুর ইজারা সংক্রান্ত বিতর্কের সময়। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপির এক নেতার ছেলের বিরুদ্ধে এই হামলা চালানো হয়। যখন ওই পুলিশ সদস্য মুঠোফোনে পরিস্থিতি রেকর্ড করছিলেন, তখন অভিযুক্তরা তাকে শারীরিক হেনস্থা করে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে, যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিনা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত রাহাদুজ্জামান পরাগ (২৭), যিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ওরফে বাবুর ছেলে এবং দিওড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, এই ঘটনার মূল অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম। আহত হন বিরামপুর থানার কনস্টেবল নুরুজ্জামান সরকার।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বেলা ১১টায় ইউএনও কার্যালয়ে অর্পিত পুকুর ইজারার আবেদন জমা দেওয়ার সময় পরাগ ও আল আমিন (২৫) নামের কিছু লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং আবেদন জমা দিতে বাধা দেয়। এই সময় কনস্টেবল নুরুজ্জামান সরকার ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি রেকর্ড করছিলেন। এরপর অভিযুক্তরা জোর করে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করতে চায় এবং পুলিশ সদস্যদের বাধা দিলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এক পর্যায়ে কনস্টেবল সরকারকে লাথি মারা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা জোর করে ইউএনও-এর কক্ষে ঢুকে ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করে। ঘটনার পর বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ইউএনও কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল বিষয়টি মিটমাট করা। বৈঠকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীন, বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিঞা মো. শফিকুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও তানজিনা খাতুন জানান, তিনি ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সংবাদ প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পর্যায়ে ছিল না। যেহেতু আমরা সরাসরি ঘটনাটি দেখিনি, তাই অভিযোগকারী পক্ষও স্বীকার করেনি। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি পুলিশ সদস্যকে ইউএনও-এর কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন পেছন থেকে ওই পুলিশ সদস্যের কোমর ও পায়ে লাথি মারা হয়। পুলিশ আঘাত এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গতকাল রাতে বিরামপুর থানার পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।।
তনু হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেলেন