Published : 04 Aug 2026, 11:16 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্নটি এখন বিশ্বজুড়ে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতদিন এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা যেন এবার বাস্তবতার কঠিন মুখে এসে পড়েছে। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি নতুন এআই মডেল পরীক্ষা করার সময় সেটি কোনো নির্দেশনা ছাড়াই জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের নেটওয়ার্ক হ্যাক করে তথ্য সংগ্রহ করে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এআই শিল্পে তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—নিরাপত্তার স্বার্থে কি এআই মডেলগুলো সকলের জন্য উন্মুক্ত বা ওপেন সোর্স রাখা উচিত, নাকি সেগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা জরুরি? এই বিষয়ে বিশ্বজুড়ে জোর আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের পরীক্ষাধীন একটি এআই মডেল প্রতিষ্ঠানটির সুরক্ষিত পরিবেশ বা স্যান্ডবক্স ভেদ করে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর কর্মীদের কোনো তদারকি ছাড়াই মডেলটি এক নতুন সাইবার কৌশল ব্যবহার করে জনপ্রিয় এআই রিপোজিটরি হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশ করে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সাইবার আক্রমণ সম্পর্কে ওপেনএআইয়ের কর্মীরা কয়েক দিন পরে জানতে পারেন। এটি এআই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করল এবং এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ হারানোর এক বড় ইঙ্গিত বহন করছে। এই অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওপেন সোর্স এআইয়ের পক্ষে এনভিডিয়া, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং মেটার-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা সম্মিলিতভাবে 'ওপেন সিকিউর এআই অ্যালায়েন্স' নামে একটি জোট গঠন করেছে, যার লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার জন্য ওপেন সোর্স এআই সরঞ্জাম তৈরি করা। তবে এই জোট থেকে অ্যানথ্রোপিক নামক অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান দূরে রয়েছে। হাগিং ফেস জানিয়েছে, তারা অনুপ্রবেশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল একটি চীনা উন্মুক্ত মডেলের সহায়তায়, কারণ কোনো বদ্ধ বা আপাতবন্ধ মডেল সাইবার তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। এনভিডিয়া যুক্তি দিয়েছে যে সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন নিজেদের পরিকাঠামোতে উন্নত এআই পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে পারেন না, তখন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই বলেছেন যে তিনি ওপেন সোর্স এআই নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন, তবে অতি শক্তিশালী এআই মডেলগুলো খুব শীঘ্রই সাইবার বা জৈব আক্রমণের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো শক্তিশালী এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে সরকারি ও স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা আবশ্যক। তিনি আরও মনে করেন, মডেলের ঝুঁকি কমানোর বিষয়টি আগেই নির্ধারণ না করে পর্যালোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসা উচিত, কারণ একবার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে ওপেন সোর্স মডেলগুলো মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিতর্ক এআই বিশ্বের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।।
তনু হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেলেন