Published : 03 Aug 2026, 01:16 PM
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য সমস্যার ভিত্তিতে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সংবেদনশীল বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল হওয়ায় বর্তমানে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং ইমরানের পরিবারের সদস্যরা এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আলোচনার সূত্রে জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূর করাই হলো এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ, কারণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও ইমরান খানকে মূলত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের কারণে কারাগারে রাখা হয়েছে। সাধারণত মুক্তি পেতে হলে বিশ্বাসযোগ্য স্বাস্থ্যগত কারণ দেখাতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁর স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা সামনে আনা হতে পারে।
চলতি বছরের শুরুতে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি কিছু গুজবও ছড়িয়েছে যে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারের এক বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই পুত্র সুলায়মান খান ও কাসিম খান জানিয়েছেন, এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। তাদের মতে, দীর্ঘ কারাবাসের ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এবং তাঁকে স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি দ্য অবজারভার আরও বলেন, ইমরানের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন এবং তাঁকে একাকী রাখা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি সামান্য দায়িত্বশীলও হয়, তাহলে স্বাস্থ্যগত কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত।
এই ধরনের সমঝোতার উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরীফ কীভাবে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইমরানের ক্ষেত্রেও যদি এমন কোনো চুক্তি হয়, তবে তাতে দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং নীরব থাকার মতো কঠোর শর্তাবলী থাকতে পারে। যদিও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলনেতা ইমরান খান এই ধরনের শর্ত মেনে নেবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ মনে করেন, তিনি অত্যন্ত জেদি প্রকৃতির মানুষ; তিনি হয়তো এমন কঠোর শর্তও মানবেন না। তবে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।।