Published : 02 Aug 2026, 01:17 AM
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সেই মহৎ ত্যাগের গল্প এবং শিশুদের অবদানকে জাতির সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে রাজধানীর শাহবাগে চার দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জুলাই জাগরণ সিজন-২’ শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শহীদ আনাসের মা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাংস্কৃতিক যাত্রার সূচনা করেন। আয়োজকরা স্পষ্ট করেছেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো জুলাই আন্দোলনে শিশুদের অংশগ্রহণ, তাদের ত্যাগ এবং অবদানকে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন আঙ্গিকের মাধ্যমে প্রকাশ করা। এখানে তুলে ধরা হবে জুলাই মাসের সেই দিনগুলোর শিশুদের চোখে দেখা স্বপ্ন, ভয়, সাহস আর আত্মত্যাগের জীবন্ত চিত্র। উৎসবের অংশ হিসেবে শিশুদের জন্য বিশেষ ‘কিডস জোন’ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। এছাড়াও, প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অপচেষ্টা হলো এই আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে এক করে দাঁড় করানো।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন বিভাজনমূলক রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে। স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাইমুম শিল্পগোষ্ঠীর সহসভাপতি সিবগাতুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, জুলাই আন্দোলনে শিশুদের অবদান দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি জানান, জেনারেশন জেড এবং জেনারেশন আলফা—উভয় প্রজন্মই এই আন্দোলনে নানাভাবে ভূমিকা রেখেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক অবদান সকলের সামনে আনা সম্ভব হবে। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ মন্তব্য করেন যে, জুলাইকে কেবল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণেই দেখা উচিত নয়, বরং এটিকে আরও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বিচার করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এখন সময় এসেছে দেশের শত বছরের সাংস্কৃতিক সংগ্রামকে নতুন ইতিহাসের আলোকে পুনর্মূল্যায়ন করার। এর জন্য কাঠামো, ভাষা, রূপরেখা এবং সাহিত্য—সবকিছুই নতুনভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাইকে ভুলে যাওয়ার নানা প্রচেষ্টা চলছে, কিন্তু জুলাইয়ের স্মৃতি ও এই ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রকে কখনোই মুছে ফেলা যাবে না বা সফল হতে দেওয়া যাবে না। সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস জাতির সামনে প্রতিষ্ঠা করা। গবেষণা, সাহিত্য, গল্প-উপন্যাস এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলামসহ বহু ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে গবেষক মাহফুজুর রহমান আখন্দ, জুলাই শহীদ নাসির হাসান রিয়ানের বাবা গোলাম রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘রক্তে ভেজা সবুজ ডানা’, ‘এক মুঠো রোদ’, ‘আমার জুলাই’, ‘জুলাই বাংলা বর্ণমালা’, ‘জুলাই স্মৃতি (দ্বিতীয় খণ্ড)’ এবং ‘জুলাই রেভোল্যুশন ওয়ালস’-সহ মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।।
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: দড়ি ছিঁড়ে পর্যটকের মৃত্যু, অবৈধভাবে চলছিল খেলা