Published : 28 Jul 2026, 05:27 PM
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় এক ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, কিছু লোক স্বামীকে বেঁধে রেখে তাকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। গ্রামবাসীর তৎপরতায় আজ ভোরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই গৃহবধূর স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নড়িয়া থানার সূত্র অনুযায়ী, গতকাল সোমবার রাতে অভিযোগ ওঠে যে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামের ওই গৃহবধূর স্বামীকে পূর্বপরিচিত কিছু লোক বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাদের এক নির্জন স্থানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরবর্তীতে তারা ফোন করে স্ত্রীকে সেখানে উপস্থিত হতে বলে। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে এই চক্রের সদস্যরা ওই নারীকে ধর্ষণ করে।
ভয়ে চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে যান এবং ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ভোরবেলা অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে নড়িয়া থানার পুলিশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তিনি নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অভিযান চালিয়ে পুলিশ আজ সকালেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাব্বি (২৮), হজরত আলী খন্দকার (৪২) ও ইমন খন্দকার (২৬)-কে আটক করেছে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া প্রথম আলোকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক বিক্রির বিরোধ চলছিল। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তারের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ওই নারী ধর্ষণের শিকার। নিশ্চিতকরণের জন্য সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
হাসপাতালে শয্যা ধরে এক গৃহবধূ আজ দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, গতকাল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং পাশের গ্রামের এক নির্জন স্থানে জিম্মি করে রাখা হয়। রাত ১০টার দিকে তারা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সেখানে যেতে বলে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন তার স্বামীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এরপর অন্য একটি গাছের আড়ালে দুই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। আত্মরক্ষার জন্য তিনি তাদের পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করলেও কেউ কিছু শোনেনি।।
তনু হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেলেন