Published : 09 Jul 2026, 07:39 AM
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় উপস্থিত শীর্ষ নেতাদের 'এক নিশানায়' সবকিছু শেষ করা যেত—এই মর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে তেহরান তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কোনো আদর্শ বা সত্তাকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে, ইরান তাদের দার্শনিক অবস্থান তুলে ধরে। তারা স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমেরিকার কাছে 'না আছে কোনো সভ্যতা, না আছে ইতিহাস, আর না আছে সম্মান'। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে খামেনি নিহত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। রোববার তাঁর জানাজায় বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বাদে তাঁর অন্যান্য শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে অংশ নেন। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্যকে ইরান সামরিক কৌশলের একটি সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, "ওরা সবাই সেখানে আছে।
এক নিশানাতেই [আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারতাম], কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ তাহলে আমাদের সাথে আলোচনা করার মতো কেউ থাকবে না।" ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুতে মানুষের শোক প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং মন্তব্য করেন, 'হয়তো ওগুলো সব ভুয়া চোখের পানি।' এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ একটি পোস্ট করে। তারা জানায়, গত ৪ জুলাই স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন করা আমেরিকার পক্ষে খামেনির জন্য এই গণশোক বোঝা অসম্ভব। তাদের মতে, তাদের 'না আছে কোনো সভ্যতা, না আছে ইতিহাস, আর না আছে সম্মান'। দূতাবাস আরও উল্লেখ করে, 'মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে আপনারা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন যার ঘ্রাণ এখন সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনারা এসব বুঝবেন না কারণ আপনাদের না আছে সভ্যতা, না আছে ইতিহাস আর না আছে সম্মান।
' খামেনির শেষকৃত্য ও জানাজা গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এবং কয়েক দিন ধরে চলবে। এই উপলক্ষে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ এবং আকাশসীমা সীমিত করা হয়েছে। রোববার পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সোমবার রাজধানীতে বিশাল শোক মিছিলের আগে খামেনির মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তাঁর কফিনটি ইরানের জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢাকা ছিল এবং এর ওপর তাঁর কালো পাগড়িটি রাখা ছিল। কফিনের পাশে রাখা ছিল গত ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তাঁর আরও চার নিকটাত্মীয়ের কফিন, যাদের মধ্যে খামেনির এক শিশু নাতনিও রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই শোকাতুর আয়োজনে ১ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে খামেনির মরদেহ ইরানের অন্যান্য শহর এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকেও নেওয়া হবে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত