Published : 09 Jul 2026, 07:34 AM
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'একবারে সবাইকে শেষ করা যেত' বলে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া গেলেও কোনো আদর্শকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনভার পরিচালনা করেন। রোববার তাঁর জানাজায় বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং তাঁর অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্যকে তেহরানে জানাজায় উপস্থিত বিপুল জনসমাগমের একটি সামরিক সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, "ওরা সবাই সেখানে আছে। এক নিশানাতেই [আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারতাম], কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ তাহলে আমাদের সাথে আলোচনা করার মতো কেউ থাকবে না।
" ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুতে মানুষের শোক প্রকাশের তীব্রতা দেখে বিস্মিত হন, কারণ তিনি মনে করতেন অনেক ইরানিই তাঁর বিরোধী ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, 'হয়তো ওগুলো সব ভুয়া চোখের পানি।' এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ পোস্ট করে ইরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে। তারা জানায়, গত ৪ জুলাই স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন করা আমেরিকার পক্ষে খামেনির জন্য এই গণশোক বোঝা অসম্ভব। কারণ তাদের 'না আছে কোনো সভ্যতা, না আছে ইতিহাস, আর না আছে সম্মান'। দূতাবাস আরও যোগ করে, 'মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু কোনো আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে আপনারা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন যার ঘ্রাণ এখন সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনাদের না আছে সভ্যতা, না আছে ইতিহাস আর না আছে সম্মান, তাই আপনারা এসব বুঝবেন না।' খামেনির শেষকৃত্য ও জানাজা গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এবং কয়েক দিন ধরে চলবে।
জানাজা উপলক্ষে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আকাশসীমা সীমিত করা হয়েছে। রোববার পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সোমবার রাজধানীতে বিশাল শোক মিছিলের আগে খামেনির মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তাঁর কফিনটি ইরানের জাতীয় পতাকা দিয়ে আবৃত ছিল এবং তাতে তাঁর ব্যবহৃত কালো পাগড়িটি রাখা ছিল। কফিনের পাশে রাখা ছিল গত ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তাঁর আরও চার নিকটাত্মীয়ের কফিন, যাদের মধ্যে খামেনির এক শিশু নাতনিও রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, তেহরানে এই শোকাতুর আয়োজনে ১ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেবেন। রাজধানীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে খামেনির মরদেহ ইরানের অন্যান্য শহর এবং প্রতিবেশী দেশ ইরাকেও নিয়ে যাওয়া হবে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত