Published : 09 Jul 2026, 07:23 AM
গত জুন মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। এই সময়ে মোট ৪৭২টি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ৪৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী এবং ৫৬ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত। উদ্বেগজনকভাবে, মোট হতাহতদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী। পথচারীদের মধ্যে ৯১ জন এই দুর্ঘটনায় জীবন হারান। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, জুন মাসে মোট ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট মৃতের সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়াও বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারী ৫৭ জন এবং পথচারী ৯১ জন এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
তিন চাকার যানবাহনের (যেমন ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা) যাত্রীদের মধ্যে ১১২ জন নিহত হয়েছেন। বাস যাত্রীদের মধ্যে ২৭ জন এবং ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহীদের মধ্যে ৩৭ জন প্রাণ গেছে। দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কগুলিতে সবচেয়ে বেশি ১৯৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর জাতীয় মহাসড়কে ১৫১টি, গ্রামীণ রাস্তায় ৬৪টি এবং শহরাঞ্চলে ৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে সবচেয়ে বেশি ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭টি পথচারীকে পদদলিত করা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা এবং ৫৩টি ক্ষেত্রে অন্য যানবাহনের পেছনে আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে জানা যায়, সকালের সময়েই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এরপর দুপুর, রাত ও বিকেলের সময়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে, নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন, এবং রেলপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীর গতির যান চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল ব্যবহার, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি হলো সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এই সমস্যাগুলো কমানোর জন্য সংস্থাটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো বারো দফা সুপারিশ করেছে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত