Published : 09 Jul 2026, 06:45 AM
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন নাটকীয় অধ্যায় রচিত হলো। কলকাতা শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয় 'তৃণমূল ভবন' নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। শুক্রবার বিকেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই দল নিজেদের 'আসল তৃণমূল কংগ্রেস' দাবি করে কার্যালয় দখল করে নেয়। কার্যালয় দখলের পর ভবনের পুরোনো সজ্জা বদলে দেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের পরিবর্তে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে নতুন ব্যানার লাগানো হয়। বিদ্রোহী নেতারা দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক ও সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার তাঁরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চের সামনে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন যে তাঁরাই মূল দল এবং নির্বাচনী প্রতীক 'জোড়া ফুল' পাওয়ার যোগ্য। দিল্লি থেকে ফিরে শুক্রবার বিকেলে তাঁরা সরাসরি দলীয় দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নেন। এই সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আখতারুজ্জামান, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার মতো শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ভবনটিতে অবস্থান করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, তবে দখল নেওয়ার পর তিনি ভবন ছেড়ে চলে যান। দখল শেষে আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের এই নতুন দলের পরামর্শদাতা হিসেবে থাকবেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান দলের নতুন কমিটিই নির্ধারণ করবে।
' অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে এক ভিন্ন ঘটনা ঘটে। কলকাতা পৌর সংস্থার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রেহেনা খাতুন তৃণমূল ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দিতে বিধান ভবনে (প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তর) গেলে সেখানে দলীয় কর্মীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। কংগ্রেস কর্মীরা তাঁকে দেখে 'চোর চোর' স্লোগান দেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে কোনো দুর্নীতিবাজ তৃণমূল নেতাকে তারা দলে নিতে আগ্রহী নয়। এই পরিস্থিতির চাপে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ঘোষণা করেন যে, তৃণমূলের কোনো দুর্নীতিবাজ নেতাকে কংগ্রেসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত