Published : 09 Jul 2026, 06:34 AM
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিজয় উল্লাসকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আদাবর এলাকায় এক বিএনপি নেতাকে (৪৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহভাজন দশজনকে আটক করেছে। আজ শুক্রবার এবং গতকাল বৃহস্পতিবার এই অভিযান চালানো হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর ও আদাবর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা প্রথম আলোকে জানান, গতকাল বিকেলে আদাবরের নবোদয় হাউজিং থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন শোয়েব, আরমান ও নয়ন। পুলিশ কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা আরও উল্লেখ করেন যে, আটক ব্যক্তিরা স্বজনদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে গেছেন এবং সেখান থেকে ফিরে তারা আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন। সেই মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এছাড়াও, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও চারজন এবং তিনজনকে আটক করেছে। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত চারজনের সঙ্গে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখা ও বিজয় উদযাপনকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় কিছু কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিল। এই সময় হাবিব নামের এক ব্যক্তি নীরব নামের এক যুবককে আক্রমণ করে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন আদাবর ইউনিটের বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নবোদয় হাউজিং বাজার এলাকায় গিয়ে নীরবকে পুনরায় মারধর করেন এবং তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করেন। গত বুধবার রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারে হাবিবের কার্যালয়ে সালিশ বসে। সালিশের পর সাদ্দাম এবং তার সমর্থকরা নীরব ও তার বড় ভাই রিপনের ওপর হামলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. সাদ্দাম এবং আদাবর ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার (বাদশাহ) আহত হন। আহত দুইজনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
সেখানে দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক আবুল বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা আরও জানান, বুধবারের হামলার ঘটনার আগেই সাদ্দাম আদাবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, আবুল বাশার পেশায় প্রাইভেট কার চালক ছিলেন এবং তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাস ছিল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার এবং তিনি আদাবরের বি-ব্লকে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত