Published : 09 Jul 2026, 05:08 AM
প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল শিক্ষা (হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ) নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল চালু এবং শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে এবার শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার সামনে তারা সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায়। এই অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে বহু যানবাহন আটকে যায় এবং তীব্র গরমে চালক ও যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহান। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। বিক্ষোভ শেষে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে তারা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিভিন্ন দাবি নিয়ে গত দশ দিন ধরে আন্দোলনরত সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য পেশ করেন। গতকাল সোমবার তারা জেলা শহরে এক সমাবেশে মিলিত হন এবং তার আগের দিনও একই স্থানে 'রোড ব্লকেড' কর্মসূচি পালন করেন। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ সকালে প্রথমে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে এরপর কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন কলেজের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহপরান ভুঁইয়া ও তামিমা রহমান, দ্বিতীয় ব্যাচের পিয়াস চন্দ্র দাস, শামসিয়া তাবাসসুম মাইমা ও সাইদুল ইসলাম সাকিব প্রমুখ বক্তব্য দেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এক বছর ধরে আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও হাসপাতাল চালু হয়নি এবং আশ্বাসে কোনো কাজ হচ্ছে না। তারা দাবি করেন, কবে হাসপাতাল চালু হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। তাদের মতে, মেডিকেল কলেজের ১০ তলা ভবন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবার অভাবে ভুগছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক আহমেদ ভুঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং শীঘ্রই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। হাসপাতাল চালু করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। লোকবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, বেলা ১টা ৩০টার দিকে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। এরপর আটকে পড়া যানবাহনগুলো চলাচল শুরু করে এবং যাত্রীরা স্বস্তি পান। বর্তমানে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করে ৫০ জন শিক্ষার্থী সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। দুই বছর পর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর এই শিক্ষার্থীরা জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে কলেজে পাঁচটি ব্যাচে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং কলেজে ৯৪ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ৫২ জন।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত