Published : 09 Jul 2026, 03:52 AM
গোপালগঞ্জে এক প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে (৬) ধর্ষণের অভিযোগে একটি কওমি মাদ্রাসাশিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে কাশিয়ানী উপজেলার একটি মাদ্রাসার কক্ষে এই নৃশংস ঘটনার পর শিশুটির মা ওই শিক্ষককে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং রাতেই অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মুস্তাফিজুর রহমান (৬৫) কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি একটি এতিমখানার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। মামলার বিবরণ ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টিফিনের সময় বিস্কুট ও চকলেট দেওয়ার অজুহাতে ওই শিক্ষক শিশুটিকে মাদ্রাসার কক্ষে ডেকে নেন।
এরপর কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগ উঠেছে, এই শিক্ষক আগেও একাধিকবার শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন এবং কাউকে কিছু জানালে তাকে মারধরের হুমকি দিতেন। সর্বশেষ শুক্রবারও একই ধরনের নির্যাতন চালানো হয়। শিশুটির পরিবার অভিযোগ করে জানায়, কিছুদিন ধরে মেয়েটি টয়লেটে যাওয়ার সময় কান্নাকাটি করত এবং ব্যথার কথা বলত। তারা মনে করত, হয়তো কম জল খাওয়ার কারণে এমন হয়েছে। গতকাল দুপুরে টয়লেট থেকে ফেরার পর শিশুটি মাকে জানায় যে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে, না হলে সে মারা যাবে।
এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং রাতে কাশিয়ানী থানায় মামলা দায়ের করেন। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৩)-এর ৯(১) ধারায় শুক্রবার রাতে মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং শনিবার বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।।
অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত