Published : 09 Jul 2026, 02:29 AM
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছেন যে, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮,২২৩.৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই বিপুল ঋণের কারণে আগামী বছরগুলোতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য প্রদান করেন মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে, জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এই ঋণের মধ্যে ৬১.৯৭ শতাংশই হলো সহজ শর্তের (কনসেশনাল) ঋণ, আর ৩৮.০৩ শতাংশ হলো কঠিন শর্তের (নন-কনসেশনাল) ঋণ। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ নিম্ন-আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ফলে আমাদের বৈদেশিক ঋণের 'সহজ শর্তের' অংশটি ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।
একই সাথে, সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ভবিষ্যতের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় আরও কঠিন হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বিএনপি সরকার বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাবগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে উচ্চ সুদের ঋণের মাধ্যমে কোনো অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হয়। শুধুমাত্র যে প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক রিটার্ন বেশি, সেগুলোর জন্যই বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও, বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয়ের বৃদ্ধি রোধ করতে সরকার প্রকল্পগুলোর নিবিড় তদারকি শুরু করেছে।
অধ্যবসায়মূলক ঋণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার মধ্যমেয়াদী ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতি হালনাগাদ করার কাজ করছে। ঋণকে টেকসই ও সহনশীল করার লক্ষ্যে বর্তমানে ঋণ টেকসইতার বিশ্লেষণ চলছে। সবশেষে, সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের পরিকল্পনা শীঘ্রই শুরু করা হবে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত