Published : 21 Jun 2026, 01:17 PM
মধ্যপ্রাচ্যের বুকে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সকল কর্পোরেশনকে সামরিক আক্রমণের মুখে ঠেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সরকারি গণমাধ্যম দাবি করেছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই সংস্থাগুলোর ব্যবহার করে ইরানে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম 'ফারস' টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছে, তেহরান এই অঞ্চলের সমস্ত মাস্ক-সম্পর্কিত স্থাপনাকে সামরিক আক্রমণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মধ্যে কাতার, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত স্টারলিংকের স্থলভিত্তিক কেন্দ্র এবং স্পেসএক্সের অংশীদারদের স্থাপনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একটি সূত্র ফারসকে জানিয়েছে, 'এই অঞ্চল এবং অধিকৃত ভূখণ্ডগুলোতে (মাস্কের) ব্যবস্থাপনায় থাকা সকল স্থাপনায় হামলা চালানোর অধিকার ইরানের রয়েছে।' আরও অভিযোগ উঠেছে, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ ইরানে পানীয় জলের অবকাঠামোতে আঘাত হানার জন্য মাস্কের কোম্পানিগুলোর ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্পেসএক্স এবং ইলন মাস্কের এক আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হোয়াইট হাউসও এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। বর্তমানে স্টারলিংক, মার্কিন সরকারের অন্যতম প্রধান ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। ড্রোন হামলা এবং মনুষ্যবিহীন নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজ পরিচালনার জন্য নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি শত কোটি ডলারের সরকারি চুক্তি অর্জন করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে 'কামিকাজি' (আত্মঘাতী) ড্রোন হামলা চালানোর ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনী স্টারলিংকের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড এনভিডিয়া, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো আরও কয়েকটি আমেরিকান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে 'ধ্বংস' করার হুমকি দিয়েছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে সামরিক বাহিনীগুলো ক্রমশ স্টারলিংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনীয় সৈন্যদের ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে স্টারলিংক এক অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। সর্বশেষ গত মাসে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর একটি শাখা 'স্পেস ফোর্স' মহাকাশে সামরিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা তৈরির জন্য স্পেসএক্সকে ২.২৯ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি প্রদান করেছে।।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিপুল ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগের পথে বাধা: আইসিএবি-র সতর্কতা