Published : 08 Jun 2026, 11:02 AM
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগের মুহূর্তে মাঠটি পরিণত হয় এক রণক্ষেত্রে। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা, যা দ্রুত হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বাংলাদেশের আল-আমিন ও মিরাজুল ইসলাম লাল কার্ড দেখেন। মাঠের এই উত্তেজনার ছাপ গ্যালারিতেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্টে’ স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে এই ম্যাচটি শেষ দিকে এমনই এক অপ্রত্যাশিত বিশৃঙ্খলার সাক্ষী হয়। ঘটনার সূত্রপাত যোগ করা সময়েই ঘটে। বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পিয়াস আহমেদের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান মালদ্বীপের হাসান ইনাজ। রেফারি সেকারান সেন্থিলনাথন যখন মালদ্বীপের পক্ষে ফ্রি-কিকের সিদ্ধান্ত দেন, তখন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সাইড বেঞ্চ থেকে উঠে এসে প্রতিবাদ করায় প্রথমে লাল কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম।
এরপর মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ফরোয়ার্ড আল-আমিন লাল কার্ড পান। কার্ড দেখার পর মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে তিনি রেফারিকে ধাক্কাও দেন। কিছুক্ষণ হট্টগোলের পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও মাঠের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। এরপর বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের মনজুরুর রহমান বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন মালদ্বীপের ইব্রাহিম নাসির ও বাংলাদেশের। মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়েরা একে অপরের ওপর চড়াও হন এবং তুমুল হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। এই দৃশ্য দেখে গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ম্যাচের বাকি সময় শেষ হয় ১-১ গোলের ড্র নিয়ে। এর আগে মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ সামনে রেখে মাঠে নেমেছিলেন মারুফুল হকের শিষ্যরা।
ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে স্বাগতিক দল এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের পঁচিশ মিনিটে বাংলাদেশও একটি পেনাল্টির জোরালো দাবি করলেও রেফারির সাড়া মেলে না। দ্বিতীয়ার্ধে মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডারের হ্যান্ডবলের কারণে বাংলাদেশ পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে দলকে সমতায় ফেরান মিরাজুল। এরপর জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলটি দলের কাছে পৌঁছায় না। দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তান আফগানিস্তানকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছায়। বাংলাদেশ যদি জয় নিশ্চিত করত, তবে তারা ৫ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে যেতে পারত, কিন্তু ড্র হওয়ায় আফগানিস্তান ফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। টুর্নামেন্টের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ অলিম্পিক দল (অনূর্ধ্ব-২৩) নিয়ে অংশ নেয় এবং তিন ম্যাচে তিনটিতেই ড্র করেছে।।