Published : 07 Jun 2026, 09:02 PM
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে এফডিসিসে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন এক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে সকলের মনে গভীর আবেগ সৃষ্টি হয়। সভাপতি পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের পুত্র বাপ্পারাজ। এই সিদ্ধান্তের প্রভাবে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুক্তির মতে, জীবনে প্রকাশ্যে এমনভাবে কেঁদেছেন তিনি খুব কমই। প্রথমবার ঘটেছিল বাবার মৃত্যুর পর। আর দ্বিতীয়বার ঘটেছিল সম্প্রতি, যখন বাপ্পারাজ তাঁকে জানান যে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না। শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাপ্পারাজের নাম ঘোষণার পর শিল্পীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা যায়। বিশেষত একই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুক্তি ছিলেন সবচেয়ে বেশি আশাবাদী। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন পরিকল্পনা, বৈঠক ও আড্ডায় তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি হঠাৎ পাল্টে যায়।
গত সপ্তাহে বাপ্পারাজ ঘোষণা করেন যে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার অজুহাতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম আলোকে বাপ্পারাজ জানান, ‘আমার কিছু ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কারণ রয়েছে। যদি নির্বাচন করার সময় দিতে না পারি, তাহলে বিষয়টি সঠিক দেখায় না। তাই আমি নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বাপ্পারাজের এই ঘোষণার পর কী ঘটেছিল, তা মুক্তি নিজেই বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কারো সামনে কখনো কান্না করি না। জীবনে দুবার কেঁদেছি—একবার বাবা চলে যাওয়ার পর, আর এই কিছুদিন আগে যখন বাপ্পা ভাই বললেন, নির্বাচন করবেন না, আমি বাড়িতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদেছি। তখন খুব দুশ্চিন্তা ছিল, এখন কী করব, কোথায় যাব। নির্বাচনের সময় তো কম।
’ বাপ্পারাজের সরে দাঁড়ানোর পর পুরো প্যানেল নতুন করে সভাপতি প্রার্থী নির্বাচনের কাজে নামে। তখনই সামনে আসে ফাইট ডিরেক্টর আরমানের নাম। মুক্তি বলেন, ‘আমাদের একজন সিনিয়র পরামর্শ দিলেন, আরমান হতে পারে। সত্যি বলতে, আমাদের কারো মনে তাঁর নাম ছিল না। কারণ, আরমান (যাকে মামা বলে সম্বোধন করা হয়) সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন এবং পুরো প্যানেল সাজানোর কাজও করছিলেন। তিনিও চাইছিলেন কোনো অভিনেতা সভাপতি পদে আসুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মতামত ও চাওয়ার ভিত্তিতে তাঁকেই সভাপতি পদে চূড়ান্ত করা হয়, কারণ আরমানই ছিলেন এফডিসিসের প্রকৃত নায়ক।’।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুভূত তীব্র কম্পন, রাজধানীসহ এলাকা কাঁপল