Published : 24 May 2026, 08:14 PM
নরসিংদীর পলাশে পুরনো শত্রুতার কারণে প্রকাশ্যে তিন তরুণকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। নিহত তরুণের নাম আশিক ভূঁইয়া (২৫)। তিনি পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। আহত অন্য দুজন—রুহুল আমিন ও মো. ইলিয়াস—গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পরিবার, স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আশিকের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পারুলিয়া এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে সাগর ও সোহাগের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষ মীমাংসার জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেলে পারুলিয়া ভূঁইয়া বাড়ির সামনে সালিসের সময় ও স্থান নির্ধারণ করে।
এদিন বিকেলে দুই পক্ষের লোকজন সালিসকারীদের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় সাগর ও সোহাগসহ প্রায় ১০-১৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে আশিকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা আশিককে এলোমেলোভাবে ছুরিকাঘাত করে। আশিককে বাঁচাতে গিয়ে রুহুল আমিন ও ইলিয়াসও ছুরিকাঘাতে আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে দ্রুত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে আশিকের মৃত্যু হয়। আশিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত সাগর ও সোহাগের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সাগর ও সোহাগ পলাতক রয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এখন পর্যন্ত তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে আশিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নেভানোর ব্যবস্থা করায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত