Published : 22 Apr 2026, 09:07 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের চরম ঘাটতি নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা মঙ্গলবার রাতে জেলা শহরের দাতিয়ারায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কার্যালয়ে হামলা চালান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না পেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে তারা কার্যালয়ের কাঁচের দরজা ভেঙে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও যোগান চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও কম। ফলে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগ-১ সূত্রে জানা যায়, এই বিভাগের অধীনে দাতিয়ারা, কাউতলী, ডিসি বাংলো, কাজীপাড়া, কান্দিপাড়া, শিমরাইলকান্দি, শেরপুর, পৈরতলা, উলচাপাড়া, গোকর্ণঘাট, আনন্দবাজার, খালপাড়, মোড়াইল, বণিকপাড়া, সাদেকপুর, ভাদুঘর এবং সদর উপজেলার বিয়ালিশ্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি ঘন্টায় এক থেকে দুই ঘন্টা করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছিল।
এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা অভিযোগ কেন্দ্রে এসে ভাঙচুর চালান। অভিযোগ কেন্দ্রে কর্মরত খলিলুর রহমান জানান, রাত ১২টা ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় তিনি একাই ছিলেন, কারণ অন্যান্য কর্মচারীরা ট্রান্সফরমারের ফিউজ মেরামতের কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ বিভাগ-১ এর তথ্য অনুযায়ী, পিক আওয়ারে (বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা) বিদ্যুতের চাহিদা ২৭ মেগাওয়াট, যেখানে অফ পিক আওয়ারে (রাত ১১টা থেকে বিকেল ৫টা) চাহিদা ৩০ মেগাওয়াট। কিন্তু এর বিপরীতে পিক আওয়ারে বরাদ্দ পাওয়া যায় মাত্র ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট, যা চাহিদার প্রায় ১৯ মেগাওয়াট কম। অফ পিক আওয়ারে বরাদ্দ থাকে ১১ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ মেগাওয়াট কম।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৩০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১১ মেগাওয়াট। এই অঞ্চলের আটটি ১১ কেভি লাইনের মধ্যে প্রায় পাঁচটিই প্রায়ই বন্ধ থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই অবস্থা বিতরণ বিভাগ-২ এও। সেখানে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ বিভাগ-১-এর সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তারা চেষ্টা করছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।।
উত্তরায় কোরবানির পশুর হাট: মেট্রোরেল পথের শৃঙ্খলা রক্ষা, ইজারাদারকে পুলিশের কঠোর বার্তা