Published : 10 Apr 2026, 03:07 AM
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও গণভোটের রায় সমুন্নত রাখার দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনস্থলে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিত হন। অনশনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শেখ মোস্তাফিজ। সংহতি জানিয়ে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকা উচিত নয়। বাংলাদেশের জনগণ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হওয়া দরকার। যদি কোনো দল বিশেষ সুবিধা লাভের জন্য এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়, তবে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, আমাদের সাংবিধানিক কাঠামো ত্রুটিপূর্ণ এবং স্বৈরাচারী।
এখানে তারেক জিয়া বা শেখ হাসিনা যেই ক্ষমতায় বসুক না কেন, তিনি ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবেন। তাই আমাদের এই পুরো সিস্টেমটি পরিবর্তন করা জরুরি।’ এর আগে, সন্ধ্যা সাতটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একটি মূকনাটক ‘জুলাই’ পরিবেশনের মাধ্যমে অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানায়। রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের নতুন করে দাবি জানানোর প্রয়োজন ছিল না। গণভোট হবে এবং এর ফলাফল বাস্তবায়িত হবে—এই আমাদের প্রত্যাশা।’ প্রক্টর আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় যাই হোক না কেন, তা বাস্তবায়িত হবে—এটা স্বাভাবিক। আমি ব্যক্তিগতভাবে এখনো আশাবাদী যে, সরকার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।
আমরা সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্য শুনছি, এবং তারা গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে জানিয়েছেন।’ এর আগে, বিকেলে অনশনরত শিক্ষার্থী সাদিক মুনওয়ার মুনেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনশনের ২৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। সকাল থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী সংহতি জানাতে এসেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমার মনোবল আরও দৃঢ় করেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।’ রাত দশটা চল্লিশ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল টিম রাজু ভাস্কর্যে এসে অনশনরত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে।।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিপুল ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগের পথে বাধা: আইসিএবি-র সতর্কতা