Published : 24 Mar 2026, 07:08 PM
পাবনার সুজানগরে দলীয় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে গুরুতর আহত মুনছুর খাঁ (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই নিয়ে পাবনায় বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুই। এদিকে, সুজানগর ও ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ মোট ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। নিহত মুনছুর খাঁ সুজানগরের ভিটবিলা গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে সোমবার সকালে একই গ্রামে সংঘর্ষের মধ্যে গুলিতে প্রাণ হারান চায়না খাতুন (৪০), যিনি স্থানীয় শুকুর আলীর স্ত্রী। অনুসন্ধানে জানা যায়, সুজানগরের হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি রাফিউল ইসলামের অনুসারীদের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিকের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্ব চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে গত রোববার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাানি হয়।
এরপর ইসলাম প্রামাণিকের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হতে চাইলে রাফিউল ইসলামের অনুসারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়, গুলিবর্ষণ করে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এই হামলায় চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও ১০ জন আহত হন। মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুনছুর খাঁও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত இருவரும் বিএনপি কর্মী এবং ইসলাম প্রামাণিকের সমর্থক ছিলেন। পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ জানান, গৃহবধূ চায়না খাতুনের মৃত্যুর পর আজ মুনছুর খাঁও মারা গেছেন। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও গুলিতে আহত হয়েছিলেন, তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, গতকাল ঈশ্বরদীর রেলগেট ও পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন যুগ্ম সম্পাদক ও পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে হাবিবুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এতে দুই পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, সুজানগর ও ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুজানগরে ১২ জন এবং ঈশ্বরদীতে ১৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সুজানগরে সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিহত চায়না খাতুনের স্বামী শুকুর আলীর একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, এজাহার জমা না দেওয়ায় এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি। এজাহার পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের ঘটনার সাথে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।।
সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো: ১ জুলাই থেকে কার্যকর, আসছে বিস্তারিত ঘোষণা