Published : 24 Feb 2026, 03:06 AM
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদা আদায়ের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. ফারুককে (৫০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান। তিনি জানান, এদিন ফারুককে আদালতে হাজির করা হলে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু আহম্মেদ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে, অভিযুক্তের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক heard করার পর আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে ফারুকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মামলার এজাহারভুক্ত ও অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার, হামলার পেছনের আসল কারণ উদঘাটন এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এর আগে, গত রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাটিয়া ধলেশ্বরী পাড় এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার ব্যবসায়ী মো. রাসেল বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ আরও আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তরা গ্রিনভিউ হাউজিং এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। মো. রাসেল ও তার বন্ধু মো. মামুন ওই এলাকায় মাদকের স্পট বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার প্রায় দশ দিন আগে, অভিযুক্তরা মোহাম্মদপুরের বছিলা রোড এলাকার ফুটপাতের দোকানদারদের কাছে চাঁদা দাবি করে।
বাদী ও তার বন্ধু মামুনসহ স্থানীয় লোকজন এতে বাধা দিলে তারা হুমকি দেয়। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গত ২১শে ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটার দিকে বছিলা রোড এলাকায় অভিযুক্তরা বাদী ও তার বন্ধুর ওপর হামলা চালায়। তারা ‘সামুরাই’ তলোয়ারসহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে তাদের জখম করে। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।।