Published : 02 Feb 2026, 11:07 PM
নারী ক্রিকেট দলের প্রাক্তন নির্বাচক ও ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রিকেটার জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গতকাল বিকেলে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। জাহানারা গত ৭ নভেম্বর একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে এই হয়রানির কথা জানান। এরপর ৯ নভেম্বর বিসিবি ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, পরবর্তীতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে পাঁচজনে উন্নীত করা হয়। বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার প্রধান ব্যরিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, অধ্যাপক ড. নাঈমা হক এবং বিসিবি মহিলা উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলা। কয়েকবার সময়সীমা বাড়ানোর পর অবশেষে গতকাল তারা প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছেন। প্রথমদিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে, জাহানারা আলম লিখিত অভিযোগ জানানোর জন্য সময় চাওয়ায় বিসিবি প্রথমবার সময়সীমা ১৫ দিন বৃদ্ধি করে।
এরপর আবারও সময়সীমা বাড়ানো হয়, এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়। অবশেষে, কমিটি তাদের কাজটি সম্পন্ন করলো। তবে, প্রতিবেদনের বিস্তারিত 내용은 এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত এবং জেন্ডার সংবেদনশীল ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিসিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একটি রিটের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। একইসঙ্গে, হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায় ও নির্দেশনার আলোকে নারী ক্রিকেটারদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) একটি কার্যকর প্রক্রিয়া (মেকানিজম) নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ২০০৮ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। এর ফলস্বরূপ, ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট নীতিমালাসহ একটি রায় দেয়।
এছাড়াও, গত বছরের ৯ নভেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে শুটার সাবরিনা সুলতানা জনস্বার্থে হাইকোর্টে আরেকটি রিট করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম এবং সালেহ আকরাম সম্রাট শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল করিম। আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম জানান, রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দিয়েছেন। যৌন হয়রানি রোধে কমিটি গঠন এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।।