Published : 09 May 2026, 03:07 PM
বাংলাদেশে হাম একটি পরিচিত স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে উন্নত স্বাস্থ্যাব্যবস্থা থাকা জাপানেও এই রোগ বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবাচ্ছে। এক দশক আগে জাপানকে ‘হামমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু সম্প্রতি সংক্রমণ আবার দেখা দিয়েছে। জাপানের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এ বছর এ পর্যন্ত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। গত দশ বছরে ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ৭৪৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এবার বছরের প্রথম ভাগেই ৪৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে幸い করে (ভাগ্যক্রমে) এখনো পর্যন্ত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। টোকিও এবং এর आसपासের তিনটি জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে – প্রায় অর্ধেক সংক্রমণই এখানে। এছাড়া কিছু জেলায় একসাথে অনেক রোগীর দেখা মিলছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশ থেকে আসা যাত্রী বা পর্যটকদের মাধ্যমে এই ভাইরাস জাপানে প্রবেশ করেছে। প্রথমে নিউজিল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ভাইরাসটি এসেছে বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে এর উৎস আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশে হামে সাধারণত শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়, তবে জাপানে বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জাপানের মাইনিচি শিম্বুন জানিয়েছে, বাহ্যিক উৎস থেকে এই রোগ ছড়ালেও, টিকাদানের হার কম হওয়াও সংক্রমণের অন্যতম কারণ। জাপানে হামের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয়, যেখানে ১ বছর এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আগে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে কিছু মানুষ টিকা নেওয়া এড়িয়ে যান। চিকিৎসকেরা বলছেন, দুই ডোজের টিকা হামের বিরুদ্ধে ৯৭-৯৯ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে। সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে দেশের অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের আওতায় আনা জরুরি, এবং জাপান সেটি সফলভাবে করেছিল। ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জাপানকে হামমুক্ত দেশ ঘোষণা করে।
কিন্তু জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে হামের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কোভিড মহামারি অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচিতেও ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। এছাড়া, সময়ের সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে। জাপানে হামের প্রাদুর্ভাব কম থাকায় গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। হামের সংক্রমণ বাড়ার পর টিকা নেওয়ার হার কিছুটা বেড়েছে। যদিও নিয়মিত টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়, অনিয়মিত টিকা বা বয়স্কদের জন্য টিকাদানে নিজেদের খরচ বহন করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতির বাজারে এটি টিকা নেওয়া নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাই, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাময়িকভাবে কোভিড টিকার মতো সরকারি খরচে হামের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।।
হাম ও জ্বালানি সংকটে ইসলামী আন্দোলনের জরুরি বার্তা: দ্রুত পদক্ষেপ চান নেতৃবৃন্দ