Published : 27 Jul 2026, 05:17 AM
দরুদ শরীফ; এর সহজ অর্থ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে মহানবী (সা.)-এর প্রতি অপার রহমত ও ভালোবাসার প্রার্থনা। দরুদ পাঠ করা ইসলামের একটি অত্যন্ত প্রিয় আমল। এই ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ এবং তাঁর বান্দার মধ্যে এক গভীর আধ্যাত্মিক বন্ধন সৃষ্টি হয়। নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করা ছিল আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশ। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠাও এবং সালামের মাধ্যমে তাঁকে অভিবাদন জানাও।’ (সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬) নবীজি নিজেও তাঁর অনুসারীদের দরুদ পাঠের জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করবে। কারণ তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়, ফেরেশতারা পৌঁছে দেন।
যে কেউ দরুদ পড়ুক, তা আমার কাছে পৌঁছাতে থাকে।’ এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তাঁর ইন্তেকালের পরেও কি তা প্রযোজ্য হবে? উত্তরে তিনি নিশ্চিত করেছেন, ‘হ্যাঁ, কবরেও। আল্লাহ তাআলা নবীদের দেহ গ্রাস করা জমিনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহর নবী কবরে জীবিত এবং তাঁকে রিজিক দেওয়া হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৩৭) যখন উবাই (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তাহলে আমি আমার সমস্ত সময় আপনার দরুদ পাঠে ব্যয় করতে পারি?’ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তর দিলেন, ‘তাহলে এটি তোমার চিন্তা ও কষ্টের অবসানের জন্য যথেষ্ট হবে।’ দরুদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে আরও জানা যায়: আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি একবার নবীর ওপর দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮) নিয়মিত দরুদ পাঠ মানুষের পাপসমূহ মুছে দেয়, মানসিক উদ্বেগ দূর করে এবং জীবনে এক অসাধারণ শান্তি এনে দেয়। সাহাবি উবাই ইবনে কাব (রা.) জিজ্ঞাসা করলে রাসূল (সা.) বললেন, ‘তুমি যতটুকু চাও।’ উবাই যখন সময় নির্ধারণের কথা জানতে চাইলেন, তখন রাসূল (সা.) নির্দেশ দিলেন যে, তুমি যত ইচ্ছা পাঠ করতে পারো, বরং তা বাড়াতে পারলে তোমারই কল্যাণ হবে।
এই মহৎ আমলের মাধ্যমে কেয়ামতের দিন বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যে তাঁর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন ওই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে, যে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৪) বিশেষত জুমার দিনে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা তাঁর একটি পবিত্র নির্দেশনা। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যারা এই নাম শুনেও দরুদ পাঠ করে না, তাদের প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এবং তারা ‘কৃপণ’ বলে গণ্য হন। তিনি বলেন, ‘যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হয় অথচ সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে না, তার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস: ২০৪২) এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে জীবন ভরে ওঠে রহমত ও প্রশান্তিতে।।