Published : 17 Aug 2026, 03:17 PM
সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী খুচরা সার বিক্রেতাদের কার্ড ও লাইসেন্স বহাল রাখার দাবিতে তারা রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এই বিক্রেতারা দাবি করছেন, ২০০৯ সাল থেকে তাঁরা সরকারি অনুমোদন নিয়ে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করে আসছেন। নতুন নিয়মাবলীতে তাঁদের বাদ দেওয়ায় প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা বিক্রেতা এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষের জীবিকা হারানোর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকেই সারা দেশের খুচরা বিক্রেতাদের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচির আয়োজন করে খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, ১০ আগস্ট সংশোধিত নীতিমালা জারি হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কার্ডধারী বিক্রেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে তারা বেশ কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলেছেন। খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. ফোরকান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে দেশের কৃষকদের সেবা করে চলেছি। আমাদের অন্য কোনো আয়ের পথ নেই।
এই বৈষম্যমূলক নীতিমালার কারণে ৪৪ হাজার পরিবারের অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে; তাই এই নীতি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’ বরগুনার আমতলার এক খুচরা সার বিক্রেতা হুমায়ুন কবির জানান, ‘আমরা পাঁচ মাস ধরে আন্দোলন করছি। আমরা কৃষকদের কাছেই সার সরবরাহ করি এবং আমাদের আয় সীমিত। আমরা ৩০ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়ে সার কিনেছি এবং কৃষকদের ৫৬ লক্ষ টাকার সার বাকি দিয়েছি। যদি আমাদের বাদ দেওয়া হয়, তবে এই পাওনা টাকা আর আদায় করা সম্ভব হবে না।’ বিক্রেতাদের অভিযোগ, নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পৃথক পরিবেশক প্রথা বিলুপ্ত করে সমন্বিত ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে এবং বিক্রেতারা সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়তে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। কক্সবাজারের রামু থেকে আন্দোলনে আসা খুচরা সার বিক্রেতা ওমর ফারুক আরও জানান, ‘সরকার সারের বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সরকারি পর্যায়ে ৫০ কেজি টিএসপি সারের বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকার বদলে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা সারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি সরকার দাবি না মানলে সচিবালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচজনের প্রতিনিধিদল সরাসরি সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে আমরা অবিলম্বে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করব।’ খুচরা সার বিক্রেতাদের মূল দাবি হলো, ২০২৫ সালের সংশোধিত নীতিমালাটি পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের বৈধ কার্ড ও লাইসেন্স বহাল রাখা হোক। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান রক্ষা করবে, তেমনি কৃষকের দোরগোড়ায় সার সরবরাহের বর্তমান ব্যবস্থাটিও সচল থাকবে। নতুন নীতিমালা জারির ফলে এই মাসের শেষে খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।।