Published : 23 Jul 2026, 07:15 PM
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের পর এবার তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে শ্যামনগর উপজেলায় তীব্র জনবিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস চত্বরে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন শুরু হয়। এই দীর্ঘ কর্মসূচিতে মো. ফরিদুজ্জামানের নেতৃত্বে মাওলানা আবদুল কাইয়ুম বক্তব্য রাখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই নৈতিক স্খলনের ঘটনা কেবল গাজী নজরুলের নিজের সম্মানহানি নয়, বরং সমগ্র আলেম সমাজকে অপমানিত করেছে। এই কারণে আমরা তাঁর মতো ব্যক্তিকে আর পবিত্র সংসদে দেখতে চাই না। তিনি অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, অন্যথায় আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেব।’ এছাড়াও, উপজেলার ঈশ্বরীপুর, কাশিমাড়ী ও নুরনগর ইউনিয়নে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর নামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়।
সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচিগুলো পালিত হয়। ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিলের পর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যবসায়ী আবদুল হালিম, শ্যামনগর উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আছাদুল্লাহ বাহার, আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান বক্তব্য রাখেন। নুরনগর বাজারেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীর বক্তব্য দেন। কাশিমাড়ী বাজারেও বিক্ষোভ মিছিল বের হয় এবং সেখানে ব্যবসায়ী সোলাইমান করির, আজিজুল ঢালী প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর এই আন্দোলন জোরদার হয়। বক্তারা আরও দাবি করেন যে, গাজী নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্যের মর্যাদা অর্জনের যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং শ্যামনগরবাসী তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই আন্দোলন ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়।
한편, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত সোমবার রাতে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর। প্রথমদিকে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী দাবি করেন যে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি। তবে পরবর্তীকালে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন যে ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে। এই তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তীতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের আলোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে।।
স্কুলের পাশের বাড়ির আলমারি থেকে শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার; গণপিটুনির শিকার হয়ে এক নারীর মৃত্যু