Published : 12 Jul 2026, 11:13 PM
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জোয়ারের পানিতে এক মৃত ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা আবারও পরিবেশের প্রতি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রোববার দুপুরে জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন সৈকত এলাকায় এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায়। উদ্ধার তৎপরতার পর ডলফিনটিকে যত্ন সহকারে মাটিচাপা দেওয়া হয়। উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু জানান, যদিও ডলফিনের মৃত্যুর হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবুও মাঝে মাঝে মৃত প্রাণীদের ভেসে আসার ঘটনা ঘটছে। তিনি দাবি করেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সমুদ্রে ডলফিনের মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর গবেষণা পরিচালনা করুক। ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষক বখতিয়ার রহমান নিশ্চিত করেছেন যে মৃত ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় আট ফুট।
ধারণা করা হচ্ছে, এটি তিন থেকে চার দিন আগে প্রাণ হারিয়েছে। ডলফিনের শরীরে দেখা যাওয়া রক্তক্ষরণ দেখে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে, এটি হয় নৌযানের আঘাত, মাছ ধরার জালে জড়িয়ে যাওয়া অথবা অন্যান্য মৎস্য আহরণ সরঞ্জামের কারণে মারা যেতে পারে। গবেষক বখতিয়ার রহমান আরও উল্লেখ করেন যে শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক এবং তেলের মতো দূষণ নদী ও মোহনার পরিবেশের জন্য এই প্রজাতির মারাত্মক হুমকি। তিনি পরামর্শ দেন যে ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। ডলফিন রক্ষা কমিটি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কুয়াকাটায় জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছে। তাদের দলনেতা রুমান ইমতিয়াজ বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে উপকূলজুড়ে ডলফিন নিয়ে সচেতনতামূলক কাজ করছি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।" খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে বন বিভাগের দল পাঠানো হয়। বন কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান জানান, মৃত ডলফিনটি যথাযথভাবে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।।