Published : 14 May 2026, 11:08 AM
হান্টা ভাইরাস একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। সাধারণত ইঁদুর এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর মাধ্যমে এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাইরাস নয়, বরং একগুচ্ছ ভাইরাসের সমষ্টি, যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার হান্টান নদীর নামে। ১৯৫০-এর দশকে কোরিয়ান যুদ্ধের সময় প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে দেখা যায়। এরপর ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এর একটি নতুন রূপ ‘হান্টা ভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ (এইচপিএস) শনাক্ত করা হয়, যা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। ভাইরাসটি মূলত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মলের মাধ্যমে ছড়ায়। ইঁদুরের বর্জ্য শুকিয়ে বাতাসে মিশে গেলে, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। এছাড়াও, আক্রান্ত ইঁদুরের কামড় অথবা দূষিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমেও এই রোগ হতে পারে। তবে, বিরল ক্ষেত্রে ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ নামের হান্টা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে।
হান্টা ভাইরাসের প্রধান দুটি রূপ হলো: ১. এইচপিএস (পালমোনারি সিনড্রোম): শ্বাসকষ্ট এবং ফুসফুসে জল জমে যাওয়া এর প্রধান লক্ষণ। ২. এইচএফআরএস (হেমোরেজিক ফিভার): কিডনি বিকল হওয়া এবং রক্তক্ষরণ এই রূপের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লু-এর মতোই—জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা এবং দুর্বলতা। কয়েক দিন পর তীব্র শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে। হান্টা ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ৩৮-৫০ শতাংশ মারা যেতে পারেন। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জন আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৪ জনই প্রাণ হারাতে পারেন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। হান্টা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ এবং অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়।
এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে আপনার ঘরবাড়ি ও কর্মক্ষেত্র ইঁদুরমুক্ত রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। ইঁদুরের উপদ্রব আছে এমন জায়গায় পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। খাবার সবসময় ঢেকে রাখতে হবে। অব্যবহৃত বা অন্ধকার ঘর পরিষ্কার করার সময় সরাসরি ঝাড়ু না দিয়ে ব্লিচিং পাউডার-মিশ্রিত পানি ব্যবহার করুন, যাতে ধুলো না ওড়ে। শস্যদানা ও খাবারদাবার নিরাপদে সংরক্ষণ করুন। ইঁদুর মারার জন্য ফাঁদ বা বিষ ব্যবহার না করে পরিচ্ছন্নতার দিকে জোর দিন। পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন থাকলে ইঁদুর সাধারণত আসে না।।
সশস্ত্র বাহিনীর সম্মান রক্ষায় রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ চাইল প্রাক্তন সৈনিকদের সংগঠন