Published : 09 Jul 2026, 03:24 AM
পাবনায় পদ্মা নদীর চরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তীব্র বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শিকার হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হলেন মঞ্জু শেখ (৪০)। শুক্রবার দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মঞ্জু শেখ সদর উপজেলার আড়িয়া গোহাইলবাড়ি এলাকার দারোগা শেখের পুত্র। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর আপন ভাতিজা ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, নিহত মঞ্জু শেখ বিএনপি কর্মীর ভূমিকা পালন করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরতারাপুরের জোতকাকুড়িয়ায় কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে বালু উত্তোলনের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধ বিদ্যমান ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। শুক্রবার দুপুর নাগাদ দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এক পর্যায়ে তীব্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মুখে মঞ্জু শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, পদ্মার পাড়ে মঞ্জু শেখের কিছু জমি ছিল। ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তাঁর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, ফলে তিনি এই কাজের বিরোধিতা করেন। এই বিরোধের জের ধরে তাঁর ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়, যার ফলে তিনি নিহত হন। ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান জানান, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। কেউ আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রশাসন যদি কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে, তবে ব্যবস্থা নেবে।
বালু কাটা আমার সঙ্গে মেলে না, আমি এসব কাজ পছন্দ করি না, তাই আমি এই অপবাদের প্রতিবাদ করছি।’ অন্যদিকে, সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শেখ আব্দুর রউফ দাবি করেছেন, ‘চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার কিছু লোক যখন বালু তুলতে গেলে আমার ভাতিজা বাধা দিতে গেলে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’ জানতে চাইলে গতকাল বিকেলে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান প্রথম আলোকে জানান, বালু উত্তোলনের বিরোধের কারণে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মঞ্জু শেখ নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহত ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।।