Published : 23 Mar 2026, 01:06 AM
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে অপহরণের পর প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সুস্থ অবস্থায় দুই বছর বয়সী শিশু কাজী ফুজাইলকে উদ্ধার করেছে র্যাব। অপহরণকারী এম এম তানভীর (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ফুজাইল তার বাবা-মায়ের সাথে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জে থাকে। স্বজনদের জানান, ঈদের দিন শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মা ও خالার সাথে বাবা হাফেজ নাসির উদ্দিনকে দেখতে হাসপাতালে যান ফুজাইল। বেলা তিনটার দিকে হঠাৎ শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে বাবা মো. মাজহারুল ইসলাম হাসপাতালে ছুটে আসেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও ফুজাইলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর রাতে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করে এবং ফুজাইলকে হত্যার হুমকি দেয়। মাজহারুল ইসলাম দ্রুত শাহবাগ থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
র্যাব-১০ এর একটি দল গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং ফুজাইলকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালায়।র্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকা থেকে অপহরণকারী এম এম তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ফুজাইলকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তানভীর পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর জানায়, ফুজাইল তার মায়ের কাছে যেতে কাঁদছিল। তাই সে শিশুটিকে খেলনা ও খাবার কিনে দেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুজাইল একা বারান্দায় হাঁটছিল। এক পর্যায়ে নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি তাকে কোলে তুলে নিয়ে যায়।
শিশু ফুজাইলের মা নুসরাত জাহান তাকিয়া জানান, দুপুরে সবাই একসাথে খাচ্ছিল, হঠাৎ ফুজাইলকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফুজাইলের মামা সাদ বলেন, নিখোঁজের পর রাত ৯টা থেকে অপহরণকারীরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। তিনি আরও বলেন, ‘অপহরণকারীরা আমাকে ফোন করে জানায়, তারা ফুজাইলকে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে এবং তার কিডনি নিয়ে নেওয়া হবে। তাকে জীবিত পেতে হলে দ্রুত কিডনি ফাউন্ডেশনের পাশে টাকা নিয়ে আসতে হবে।’ সাদ অপহরণকারীদের ফাঁদে না পড়ে কৌশলে তাদের সাথে কথা বলে র্যাবকে তাদের অবস্থান জানতে সাহায্য করেন। এই সুযোগে র্যাব অভিযান চালিয়ে ফুজাইলকে উদ্ধার করে।।
ঈদের ছুটিতে লালবাগ কেল্লায় জনস্রোত, আনন্দে মুখরিত ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ