Published : 09 Jul 2026, 02:42 AM
দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার চিত্র চোখে পড়ার মতো। কিছু প্রতিষ্ঠানে অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির অভাব দেখা যায়, আবার কিছু জায়গায় মূল্যবান সম্পদ ফেলে রাখা হয় নষ্ট হওয়ার মুখে। এই পরিস্থিতিতে রোগীরাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় শিকার। উদাহরণস্বরূপ, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনায় একটি অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট-সুবিধাসম্পন্ন আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘ চার বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এই ঘটনা কেবল দুঃখজনক নয়, এটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। যে দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে জীবনদায়ী সরঞ্জাম না থাকার কারণে প্রাণ হারাতে হয়, সেখানে আন্তর্জাতিক উপহার হিসেবে প্রাপ্ত কোটি টাকার জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এভাবে ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়ে থাকা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার বছর আগে ভারত সরকারের দেওয়া এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি সচল থাকলে রাউজান ও তার পার্শ্ববর্তী বহু সংকটময় রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।
কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চালক, টেকনিশিয়ান এবং জ্বালানির বরাদ্দের অভাবে গাড়িটি এক মুহূর্তের জন্যও সচল হয়নি। একটি জীবন রক্ষাকারী যান চালু রাখতে চার বছর ধরে কেবল 'চিঠি চালাচালি' এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজালে জনবল ও বরাদ্দ আটকে থাকা—এটি আমাদের স্বাস্থ্য খাতের সমন্বয়হীনতা ও চরম উদাসীনতাকে স্পষ্ট করে তোলে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই সংকট ও অব্যবস্থাপনার খবর স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চতম স্তরে পৌঁছায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায়ও এই বিষয়টি কখনো উত্থাপন করা হয়নি। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রশাসনের এই যোগাযোগহীনতা ও নজরদারির অভাব সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। আমাদের দেশের উপজেলা স্তরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা দীর্ঘদিনের সংকট। রাউজানের এই চিত্র সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
চিকিৎসাসervice নিশ্চিত করার জন্য অবকাঠামো বা যন্ত্রপাতির চেয়েও বেশি প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সদিচ্ছা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কেবল চিঠি দিয়ে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবিলম্বে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও জ্বালানি বরাদ্দ নিশ্চিত করে এটিকে সেবার উপযোগী করা হোক। একই সাথে সারা দেশের অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যানবাহন অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি সামগ্রিক তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জাতীয় সম্পদ এবং মানুষের জীবন নিয়ে এমন খেয়ালী মনোভাব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।।