Published : 30 Jun 2026, 01:52 PM
কোনো নারী কর্মীর ক্ষেত্রে প্রসূতি ছুটি না থাকা এবং কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তা সীমিত করার আইনি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই রিটটি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার দাখিল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান আবেদনকারী হিসেবে এই মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় মূলত ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ৪৬ ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) ১৯৭ বিধির অধীনে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রাপ্তি ও প্রদানের দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধানগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর তথ্য অনুযায়ী, বিএসআর-এর ১৯৭ বিধি অনুযায়ী একজন মহিলা কর্মচারী তার কর্মজীবনের মোট দুইবারের বেশি প্রসূতি ছুটি পাবেন না। একই সাথে, শ্রম আইনের ৪৬(১) ধারা অনুযায়ী কোনো নারী কর্মী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের কম চাকরি করে থাকেন, তবে তিনি প্রসূতি ছুটি পাবেন না।
এছাড়াও, ৪৬(২) ধারা অনুযায়ী প্রসবের সময় দুই বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকলেও ছয় মাসের বেশি চাকরি করলেও নারী কর্মী মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন না। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী সপ্তাহে এই রিটের শুনানি করতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, "এই দুটি বিধানের মূল বক্তব্য হলো, তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে প্রসূতি ছুটি নেই। এমনকি শ্রম আইনের নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের কম চাকরি করলে প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও কোনো নারী কর্মী মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন না। এটি অত্যন্ত অমানবিক।" আইনজীবী আরও বলেন, "একজন নারীর প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে প্রসবজনিত শারীরিক ঝুঁকি, চিকিৎসা, বিশ্রাম ও নবজাতকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা একই।
তাই কেবল সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রসূতিকালীন ছুটি বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং সংবিধানের পরিপন্থী।" রিটে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করা সংক্রান্ত শ্রম আইনের ৪৬(১) ও ৪৬(২) ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না—এই বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করা সংক্রান্ত বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) ১৯৭(১) ও (১এ) বিধি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। এই রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জনপ্রশাসনসচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবসহ মোট তেরোজনকে বিবাদী করা হয়েছে।।