Published : 07 Jun 2026, 05:13 PM
মাগুরা জেলা পুলিশ সংঘাত ও অস্থিরতা নিরসনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি স্থাপনে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে জেলা পুলিশ আয়োজন করে 'সম্প্রীতির ফুটবল' প্রতিযোগিতা। গত শনিবার বিকেলে মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নে এই প্রীতি ম্যাচের উদ্বোধন করা হয়। এলাকার দীর্ঘদিনের শান্তি ও সামাজিক বন্ধন পুনরুদ্ধারের এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্দেশ্যে এই খেলা আয়োজন করা হয়। গতকাল বিকেলে হাজরাপুর ইউনিয়নের রাউতাড়া স্কুলের মাঠে 'পুলিশ সুপার কাপ সম্প্রীতির ফুটবল–২০২৬' টুর্নামেন্টের সূচনা হয়। এই ম্যাচে মাগুরা জেলা পুলিশ দল এবং হাজরাপুর ইউনিয়নের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের ফুটবল দল একে অপরের মুখোমুখি হয়। ৯০ মিনিটের এই রোমাঞ্চকর খেলায় মাগুরা জেলা পুলিশ দল ৩-১ গোলে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয় হাজরাপুর ইউনিয়ন দল। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনার সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ইউনিয়নের আলমখালী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে বড় ধরনের সংঘাত, ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা এলাকায় গভীর অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।
এই বিরোধপূর্ণ পরিবেশ দূর করে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় জেলা পুলিশ এই ব্যতিক্রমী খেলার আয়োজন করে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পটভূমিতে রাউতাড়া স্কুলের মাঠে বিপুল সংখ্যক দর্শক সমাগম হয়। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও গ্যালারি ও মাঠের বাইরে পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অসাধারণ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। খেলা চলাকালীন বিজয়ী দলের স্ট্রাইকার সামাদ তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' নির্বাচিত হন। হাজরাপুর ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর একটির নেতৃত্ব দেন বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম। তিনি এলাকার সংঘাতের চিত্র তুলে ধরে বলেন, '২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের মধ্যে এই ধরনের সংঘাত লেগেই আছে। তবে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা ও দলাদলি মিটমাট করার এই খেলার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সমাজে কিছু বিশৃঙ্খল ব্যক্তি ছাড়া বাকি অধিকাংশ মানুষ শান্তির সন্ধান করে।
' ম্যাচের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। খেলা শুরুর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের সূচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, 'আজকের এই খেলার মাধ্যমে আমরা আশা করি, হাজরাপুর এবং এর বাসিন্দাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া তুচ্ছ ঘটনা বা দীর্ঘদিনের বিবাদ, মারামারি, হানাহানি ও সহিংসতার ঘটনাগুলো ইতি ঘটবে। সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিভেদ কাম্য নয়; বরং পারস্পরিক মিল-মহব্বত ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সকলের এগিয়ে যাওয়া উচিত।' খেলা শেষে প্রধান অতিথি চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলকে ট্রফি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।।