Published : 13 Jul 2026, 01:16 AM
মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুতে ইসরায়েলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গ্রাহামের এই মৃত্যুতে ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্কের এক বিশেষ দিক সামনে এসেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এই শোক প্রকাশ করে বলেন, গ্রাহামের মৃত্যুতে তারা এক প্রিয় বন্ধুর অনুপস্থিতি অনুভব করছেন। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, ‘ইসরায়েল ও আমেরিকার নিরাপত্তা যে একই সূত্রে বাঁধা, তা লিন্ডসে গ্রাহাম ভালোভাবে বুঝতেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল তার অন্যতম সেরা বন্ধুকে হারাল। আর আমেরিকা হারাল একজন মহান দেশপ্রেমিককে। আর আমি হারালাম আমার এক প্রিয় বন্ধুকে।’ সামাজিক মাধ্যম এক্সে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট আলাদাভাবে পোস্ট করে গ্রাহামকে ইসরায়েলের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন, গ্রাহাম ছিলেন ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক। গ্রাহামের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে এমন ফলাফলের জন্য গ্রাহাম সবসময় জোর দিয়ে এসেছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করে। তিনি ছিলেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জোরালো সমর্থক। গ্রাহামের মৃত্যুতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও শোক প্রকাশ করে জানায়, ‘ইসরায়েলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রাহাম।’ তাঁর এই চলে যাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০০২ সালে মার্কিন সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০২০ সালেও পুনরায় নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ১৯৯৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সাউথ ক্যারোলাইনার তৃতীয় কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের ঘোরতর সমর্থক ছিলেন গ্রাহাম এবং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জুগিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পেতে লড়াই করলেও তিনি দলীয় বাছাইপর্ব শুরুর আগেই সরে দাঁড়ান। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক ছিলেন, তবে পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসে তিনি ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত convertirse। রাজনীতিতে নামার আগে গ্রাহাম মার্কিন বিমানবাহিনীতে কাজ করেছেন এবং সেখানে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বিমানবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্সে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে কর্নেল পদমর্যাদায় অবসর গ্রহণ করেন।।