Published : 05 Jul 2026, 02:56 PM
বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করার উদ্দেশ্যে ১০ জুন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর যুব উন্নয়ন সমিতির সদস্যরা চাঁদা তুলে একটি টেলিভিশন কিনেছেন। কিন্তু এই আনন্দের মাঝে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, কারণ নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। ক্লাবের সদস্য আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ‘আমরা ধারদেনা করে টিভি কিনেছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় খেলা দেখা অসম্ভব। রাতের তীব্র গরমে ঘরে থাকাটাও কঠিন, আর বাইরে বের হলে মশার উপদ্রবও অসহ্য। এই পরিস্থিতিতে আমরা চরম ভোগান্তিতে।’ আরিফুল জানান, গতকাল মঙ্গলবার মাগরিবের সময় বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে রাত ৯টা, রাত ১০টা এবং রাত ১২টার বিরতিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। রাত ১টায় ফ্রান্স ও সেনেগালের খেলা শুরু হলেও বিরতিতে বিদ্যুৎ চলে যায় এবং রাত ২টো ২০ মিনিটে আবার বিদ্যুৎ চলে আসে। ভোরের দিকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তারা আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার খেলাটির প্রায় ৪০ মিনিটই দেখতে পান।
দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছেন। শহরের তুলনায় গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম; যেখানে শহরে কিছুটা সুবিধা থাকলেও গ্রামে প্রায় ৮-৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার ফিরে আসতে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, রাতের বেলা বিদ্যুৎ না থাকার কারণে দুর্ভোগ চরমে। দিনের বেলাতেও প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একই সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এক ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে, যা বয়স্কদের জন্য আরও কষ্টদায়ক। ছোট শিশুদের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক।
শহরের চারুবাবুর মোড় এলাকার বাসিন্দা লাজু ইসলাম উল্লেখ করেন, তুলনামূলকভাবে এবার লোডশেডিং কম হলেও গত কয়েকদিন ধরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গত রাতে দুবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অসহনীয় গরমে কষ্ট হচ্ছে এবং শিশুরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। মশারি ব্যবহার করলেও ঘাম হচ্ছে এবং মশারি না টাঙালে মশার যন্ত্রণা হচ্ছে। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) সীমা রানী কুন্ডু স্বীকার করেছেন যে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, গত রাতে যেখানে বিদ্যুৎ চাহিদার পরিমাণ ছিল ১২০ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৭৫ মেগাওয়াট। আরও দেখা গেছে, বুধবার বিকেল ৪টার সময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল কম। দিনাজপুর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবও জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে গড়ে ৩৩ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও মাত্র ১৮-২০ মেগাওয়াট সরবরাহ হচ্ছে।।