Published : 25 May 2026, 01:52 AM
ফুটবল খেলা তো বহুবার দেখেছেন, তাই না? নিশ্চয়ই জানেন, ফুটবলে হাওয়া দেওয়াটা জরুরি। হয়তো মজার ছলে বলের হাওয়া কমে গেলে নানা গল্পও শুনেছেন। কিন্তু ফুটবলকে চার্জ দিতে হয়, এমন কথা আগে শুনেছেন কি? এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে এমনটাই ঘটতে চলেছে! এই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ত্রিওনদা’কে খেলার জন্য সবসময় সচল রাখতে হবে, নিয়মিত চার্জ দিতে হবে। অনেকটা স্মার্টফোনের ব্যাটারির মতো! ব্যাটারি শেষ হলে যেমন আমরা চার্জার খুঁজি, রেফারিদেরও ম্যাচ শুরুর আগে নিশ্চিত করতে হবে বলের ‘ফুল চার্জ’ আছে কিনা! একবার চার্জ দিলে এই বল একটানা ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে, যা দেড় ঘণ্টার একটি ফুটবল ম্যাচের জন্য যথেষ্ট। ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডিডাস’ এই বলটিকে শুধু চামড়া আর সুতার গোলক হিসেবে তৈরি করেনি, এটি আসলে একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি লুকানো আছে এই বলের ভেতরে।
‘অ্যাডিডাস’ বলের মধ্যে একটি বিশেষ মোশন সেন্সর চিপ যুক্ত করেছে। বলের ঠিক কেন্দ্রে বসানো ৫০০ হার্টজের এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য রেকর্ড করতে পারে। অর্থাৎ, একজন খেলোয়াড়ের পায়ের সামান্য স্পর্শ, বলের ঘূর্ণন, গতি এবং পথের নিখুঁত হিসাব রিয়েল টাইমে কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে যাবে। বলের ভেতরে মাত্র ১৪ গ্রাম ওজনের এই চিপটি এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে খেলোয়াড়রা শট বা ড্রিবলিং করার সময় কোনো অসুবিধা বোধ না করে। মাঠে খেলোয়াড়রা বুঝতেই পারবে না যে তারা সাধারণ বলের চেয়ে অন্য কিছু দিয়ে খেলছে।
মাঠের রেফারিরা অফসাইড, হ্যান্ডবল বা ফাউলের মতো কঠিন সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে নেওয়ার জন্য এই বলের তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন। অফসাইডের ক্ষেত্রে ঠিক কোন মুহূর্তে পাস দেওয়া হয়েছে, তা খালি চোখে ধরা না পড়লেও ‘ত্রিওনদা’র চিপ সেকেন্ডের পাঁচশ ভাগের এক অংশে তা ধরে ফেলবে। ফলে রেফারিদের আর অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হবে না। আরও পড়ুনবিশ্বকাপে কোচ বেশি আর্জেন্টিনার, দুইয়ে ফ্রান্স১০ ঘণ্টা আগে।
আর্জেন্টিনাকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন ফুটবল দলকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করল সরকার