Published : 08 Jul 2026, 09:53 PM
মিগুয়েল আলমিরন কোনো আক্রমণাত্মক ট্যাকল করেননি, এমনকি প্রতিপক্ষকে কনুইও আঘাত করেননি। রেফারির সঙ্গে তর্কও করেননি। তবুও তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন তিনি নিজের মুখ ঢেকে কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন মুখ ঢেকে কথা বলার জন্য এই কঠোর শাস্তি? এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ঘটনার কেন্দ্রে ছিল এই অদ্ভুত আচরণ। তুরস্কের মের্দ মুরদুলের সঙ্গে কথা বলার সময় প্যারাগুয়ের এই মিডফিল্ডার নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। এই কাজটিই তাঁকে ইতিহাসের পাতায় স্থান দিয়েছে। ফুটবলের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে লাল কার্ড দেখানো প্রথম খেলোয়াড় এখন এই ব্যক্তি। কিন্তু এই নিয়ম কেন চালু হলো? মুখ আড়াল করে কিছু বলার সঙ্গে লাল কার্ডের সম্পর্ক কী? ফুটবল মাঠে উত্তেজনা, মানসিক চাপ বা স্লেজিং—এগুলো বহু বছর ধরে স্বাভাবিক।
কিন্তু যখন কোনো খেলোয়াড় কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখেন, তখন আসলে কী বলা হচ্ছে, তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে বর্ণবাদী বা বৈষম্যমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। এই জটিলতা দূর করতে বিশ্ব ফুটবলের আইনপ্রণেতারা নতুন নিয়ম চালু করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে মুখ ঢেকে কথা বলার কারণে খেলোয়াড়দের লাল কার্ড দেখানোর বিধান কার্যকর করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক ম্যাচে এই বিষয়টি তীব্রভাবে আলোচিত হয়। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। কী বলা হয়েছিল, তা স্পষ্ট না হলেও বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে উয়েফা এই ঘটনায় প্রেসতিয়ান্নিকে সমকামবিদ্বেষী আচরণের দায়ে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, এই নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিরোধ তৈরি করা।
তাঁর যুক্তি, কোনো খেলোয়াড় যদি এমন কিছু বলেন যা প্রকাশ্যে বললে সমস্যা সৃষ্টি করবে, তখনই তিনি মুখ ঢাকার প্রয়োজন অনুভব করেন। ইনফান্তিনো প্রকাশ করেছেন, যদি লুকানোর কিছু না থাকে, তবে মুখ ঢাকারও প্রয়োজন নেই। ফলে সংস্থাটি এই অভ্যাসটি নিরুৎসাহিত করতে চায়। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু মুখ ঢেকে কথা বললেই লাল কার্ড দেখানো হয় না। আইএফএবি জানিয়েছে, প্রতিটি পরিস্থিতি রেফারির বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হবে। যদি রেফারি মনে করেন আচরণটি সন্দেহজনক, উসকানিমূলক বা খেলার স্বার্থের পরিপন্থী, তবে সরাসরি বহিষ্কারের ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকবে। আর এই শাস্তিই আলমিরনকে দিয়েছেন এল সালভাদরের রেফারি ইভান বারটন।।
ম্যাচটি ছিল সাজানো, আর্জেন্টিনাকে আরও এক বিশ্বকাপ জয়ের শুভেচ্ছা