Published : 24 Apr 2026, 12:06 AM
দেশের কৃষি খাতকে সচল রাখতে এবং শহর-গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের বৈষম্য দূর করতে সরকার একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামের কৃষকদের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা এবং তাদের সেচ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থার অভাব দেখা দিয়েছে, তাই যেকোনো বক্তব্য বিশ্বাস করতে তাদের সময় লাগতে পারে। তবে এই সরকার তাদের দেওয়া প্রতিজ্ঞা ও সংসদের পবিত্রতা রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিদ্যুতের এই সমস্যা আজকের নয়, এটি অতীতের ভুল সিদ্ধান্তের ফল। কাগজে-কলমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি দেখালেও বাস্তবে তার মিল নেই।
” প্রতিমন্ত্রী জানান, গতকাল দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬.৩৫ মেগাওয়াট। তাই বাধ্য হয়ে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফসল কাটার মৌসুম চলছে, তাই কৃষকদের সেচের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই ঢাকায় প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত থাকে এবং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া যায়। গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা, কিন্তু উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে দ্রুত গ্যাস আমদানি করা যাচ্ছে না।
তবে সরকার ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকায় এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে এবং সংসদকে আশ্বস্ত করেছে যে খুব শীঘ্রই এর ফল পাওয়া যাবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এগুলো চালু হলে সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। প্রতিমন্ত্রী জনগণের এই সাময়িক কষ্টের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।।